সোনাদিয়া চ্যানেলে তিন দিনে ১৫ ফিশিং ট্রলারে ডাকাতির অভিযোগ

মহেশখালী প্রতিনিধি | মঙ্গলবার , ৬ অক্টোবর, ২০২৬ at ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ

বঙ্গোপসাগরে গত ৩ দিনে মহেশখালী সংলগ্ন সোনাদিয়া চ্যানেলে অন্তত ১৫টি ফিশিং ট্রলার ডাকাতির শিকার হয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। জলদস্যুরা এসব ফিশিং ট্রলার থেকে অন্তত এক কোটি টাকার জাল, মাছ, তেল, নগদ টাকা, মোবাইল ও ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। ডাকাতদের মারধরে ২০ মাঝিমাল্লা আহত হয়েছে। এছাড়া ৩টি ফিশিং ট্রলার ও ২৪ জন মাঝিমাল্লা নিখোঁজ রয়েছে। এসব ফিশিং ট্রলারকে জিম্মি করে ওইসব ট্রলার দিয়ে জলদস্যুরা সাগরে দস্যুতা অব্যাহত রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মহেশখালীর কালারমার ছড়া জেলে কল্যাণ সমবায় সমিতি ও কালারমারছড়া বোট মালিক সমিতি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

কালারমারছড়া জেলে কল্যাণ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আমির হোসেন বলেন, গত শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত ৩ দিনে বঙ্গোপসাগরের সোনাদিয়া চ্যানেল সংলগ্ন পশ্চিমে সাগরের ১২ বাম নামক স্থানে ১০/১২ জনের একদল সশস্ত্র জলদস্যু ট্রলার নিয়ে গণহারে ডাকাতি শুরু করে। তারা মাঝিমাল্লাদের মারধর করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বোটে থাকা আহরিত মাছ, জাল, তেল, খাদ্য রসদপাতি, মোবাইল, নগদ টাকা ও ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ সহ প্রতিটি ফিশিং ট্রলার থেকে অন্তত ৭/৮ লাখ টাকার মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। জলদস্যু দ্বারা আক্রান্ত ফিশিং ট্রলারগুলোর মধ্যে মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ শাহ ঘোনা নামের একটি ঘাটের ৯টি ফিশিং ট্রলার রয়েছে। এসব ট্রলারের মালিকরা হচ্ছেন মো. বেলাল মাঝি, আশেক উল্লাহ কালু, মাহমুদুল হক, নুরুল আবছার, জয়নাল বহদ্দার, নুরুল আলম বহদ্দার, ওবায়দুল হক বহদ্দার, আহমদ উল্লাহ বহদ্দার ও মোহাম্মদ বেলাল মাঝি। আক্রান্ত এসব ফিশিং ট্রলারের আহত মাঝি–মাল্লারা গতকাল ৫ অক্টোবর মহেশখালীর কালারমার ছড়া মোহাম্মদ শাহ ঘোনা ঘাটে ফিরে আসলে আহতদেরকে মহেশখালী, কঙবাজার ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।

কালারমারছড়া জেলে কল্যাণ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, জলদস্যুদের হাতে ডাকাতির শিকার কালারমার ছড়ার ৯টি ফিশিং বোট ছাড়াও মহেশখালীর ধলঘাটা ঘটিভাঙ্গা, গোরকঘাটা ও হোয়ানকের আরো অন্তত ৬টি ফিশিং ডলার ডাকাতির শিকার হয়েছে। এছাড়া মোট ৩টি ফিশিং ট্রলার ২৪ জন মাঝিমাল্লা নিখোঁজ রয়েছে। এসব ফিশিং ট্রলারকে জিম্মি করে ওইসব ট্রলার দিয়ে জলদস্যুরা সাগরে দস্যুতা অব্যাহত রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কালারমারছড়া বোট মালিক সমিতির সভাপতি আহমদ উল্লাহ বলেন, ৮ জন মাঝি–মাল্লা সহ আমার একটি ফিশিং ট্রলার জলদস্যুরা জিম্মি করে নিয়ে গেছে। গত শুক্রবার থেকে মাঝিমাল্লাদের সাথে কোনো যোগাযোগ হচ্ছে না। কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীসহ সরকারের আইন–শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিখোঁজ ফিশিং ট্রলার ও মাঝিমাল্লাদের উদ্ধার ও সাগরে জলদস্যুতা বন্দে জরুরি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধশাহ আমানত বিমানবন্দর হবে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব
পরবর্তী নিবন্ধহাটহাজারীতে গ্লোবাল এন্টারপ্রাইজকে লাখ টাকা জরিমানা