চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এছাড়া সংঘাত এড়াতে আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত কলেজের শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি বহিরাগত এড়াতে ক্যাম্পাসে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এদিকে গতকাল কলেজে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ দেখা গেছে। এদিন সাধারণ শিক্ষার্থী এবং ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের আনাগোনাও তেমন দেখায় যায়নি। হয়নি কোনো ক্লাস। তবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার গ্রাফিতিতে ‘ছাত্র’ মুছে দিয়ে ‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা–কর্মীদের দুই দফা সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে দু্ই পক্ষের ৩০–৪০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের জন্য পরস্পরকে দায়ি করে ছাত্রদল–ছাত্রশিবির। সংঘর্ষে পাহাড়তলী ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সভাপতি আশরাফুল ইসলামের পায়ের গোড়ালি কেটে গেছে। তাকে গতকাল বুধবার ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে আজাদীকে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর (দক্ষিণ) ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্রচার সম্পাদক জাহিদুল আলম জয়।
এদিকে সিএমপি সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি নগরীর অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও নজরদারি বাড়নো হয়। সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী সাংবাদিকদের বলেন, হামলার ঘটনায জড়িতদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে। যারাই জড়িত থাকুক আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিব। এই পর্যন্ত আমরা কোনো লিখিত অভিযোগ বা কারো পক্ষ থেকে কোনো মামলা এ ধরনের কিছু পাইনি। পুলিশের গাফিলতি যদি কোনো কিছু থেকে থাকে আমরা তদন্ত করে দেখব। থাকলে আমরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেব।
সংঘর্ষে দেশি অস্ত্রের ব্যবহার বিষয়ে বলেন, আমাদের অভিযান চলছে। অবশ্যই ফুটেজ দেখে আমরা ব্যবস্থা নেব। তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়েছি যাতে এ ধরনের ঘটনা না বাড়ে। এবং এই ধরনের সমস্যা যাতে না বাড়ে। সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমাদের নজরদারি আছে। এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ ফোর্স মোতায়েন আছে।
কলেজের অধ্যক্ষ আবু ছালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা মিটিং করেছি শিক্ষকদের নিয়ে। সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কলেজ ক্যাম্পাসে বহিরাগতরা যাতে প্রবেশ করতে না পারে। আমরা এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছি। উনারা বলেছেন, যতদিন প্রয়োজন হয় তারা আমাদের সহায়তা দিবে। ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের সাতদিন সময় দিয়েছি। তারা তদন্ত করে জানাবে কেন কী হয়েছে।














