মাদক ব্যবসায়ীর সহযোগীদের হামলায় এসআইসহ দুই পুলিশ আহত

নগরীর আমবাগানে ঘটনা, মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ২৬ জুলাই, ২০২৬ at ৪:৪০ পূর্বাহ্ণ

নগরীর আমবাগানে মাদক ব্যবসায়ীকে ধরতে গিয়ে তার সহযোগীদের ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন এক এসআইসহ দুই পুলিশ সদস্য। গতকাল শনিবার রাত ৮টার দিকে আমবাগান রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্য হলেন ডবলমুরিং থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মবিনুল ইসলাম। তাকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।

এ সময় ওই এসআইয়ের সাথে থাকা ১০ রাউন্ড গুলিসহ একটি নাইন এমএম পিস্তল দুর্বৃত্তরা নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন অভিযানে থাকা এক পুলিশ সদস্য। তবে পুলিশের উপর হামলার ঘটনা নিশ্চিত করলেও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) গণমাধ্যম সেল অস্ত্র ও গুলি লুটের বিষয়টি স্বীকার করেনি।

পুলিশ সূত্র জানায়, আমবাগানসহ আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল আলমগীর নামের একজন। তাকে ধরতে ডবলমুরিং থানার এসআই মবিনুল ইসলামসহ একটি টিম অভিযান চালান। অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন টিমের সদস্যরা। কিন্তু হঠাৎ তার সহযোগীরা পুলিশের উপর হামলা করে। এ সময় এসআই মবিনুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। হামলায় অপর একজন পুলিশ সদস্য মাথায় আঘাত পেয়েছেন। তবে আলমগীরকে পালাতে দেননি অভিযান পরিচালনাকারী পুলিশ সদস্যরা। তাকে থানায় নেওয়া হয়েছে।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক আজাদীকে বলেন, অভিযানে গিয়ে আহত এসআই মবিনুল ইসলামের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার শরীরের ১০১৫ স্থানে ছুরিকাঘাত করা রয়েছে। তিনি গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।

এদিকে অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে আজাদীকে জানান, হামলার সময় আহত এসআইয়ের সাথে থাকা নাইন এমএম পিস্তল ও ১০ রাউন্ড গুলি খোয়া যায়। পুলিশের একাধিক টিম ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও খোয়া যাওয়া অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারে আমবাগানসহ আশেপাশের এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে।

সিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার আমিনুর রশিদ আজাদীকে বলেন, মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী আলমগীরকে গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকায় মানববন্ধনও হয়েছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আজকে (গতকাল) অভিযান পরিচালনা করে আমাদের একটি টিম তাকে গ্রেপ্তার করে। তখন তার সহযোগীরা হামলা করলে আমাদের একজন সদস্য গুরুতর আহত হন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, হামলার পরও পুলিশ সদস্যরা আলমগীরকে থানায় নিয়ে আসতে সক্ষম হন। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। পিস্তল ও গুলি খোয়া যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অস্ত্রগুলি খোয়া যাওয়ার বিষয়টি আমার নজরে নেই। এখন পর্যন্ত আমার কাছে এমন কোনো তথ্য নেই। পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনালা থেকে ১৩৫০টি গুলি উদ্ধার
পরবর্তী নিবন্ধমাদকাসক্ত ছেলের ছুরিকাঘাতে মা-বাবা খুন, পুত্র আটক