ইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলা

ফেসবুক লাইভে বললেন, শেষ দেখে ছাড়ব

| বুধবার , ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৫:৫১ পূর্বাহ্ণ

ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হাতে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। বাংলাদেশ সময় গত সোমবার গভীররাতে ভেনিস শহরের মেস্ত্রে এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই অভিনেত্রী ফেসবুক লাইভে বলেন, আওয়ামী লীগের একদল কর্মী তার গায়ে পানি ও কোক ছুড়েছে। তিনি বলেন, তারা আমার গায়েও হাত তুলেছে। আমার ফোন ফেলে দিয়েছে, আমার কানের এখানে বাড়ি মেরেছে। তারা বলেছে যে, আমি জুলাই যোদ্ধা। ইয়েস, আই অ্যাম। আমি অবশ্যই জুলাইতে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি। তারা বলেছে যে, তারা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। তারা আমাকে বলেছে যে, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে জোর করে। তো এবং তারা সেগুলো ভিডিও করেছে এবং সেগুলো তারা লাইভ করছিল, আপলোড করছিল। খবর বিডিনিউজের।

বাঁধন আক্ষেপ করে বলেন, আওয়ামী লীগের যেই কর্মীরা জানেন না যে, আমি বাংলাদেশ থেকে যে সিনেমাটা নিয়ে ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে আসছি, সেই সিনেমাটার ডিরেক্টর হচ্ছে রুবাইয়াত হোসেন। যার বাবা আপনাদের একজন সম্মানিত মন্ত্রী ছিলেন। আপনারা একটু খবর নিয়ে দেখবেন। সো, আমি তার সাথে কাজ করেছি এবং জুলাইয়ের পরেই কাজ করেছি।

রোববার সন্ধ্যায় ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতামূলক ‘অরিজন্তি’ বিভাগে প্রদর্শিত হয় রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। রুবাইয়াত আওয়ামী লীগের মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের মেয়ে। ঘটনার বর্ণনায় বাঁধন বলেন, আমি যে হোটেলে আছি তার পাশের একটা পার্কে রাতে হাঁটতে গিয়েছিলাম, আমার ভাই, আমার ভাইয়ের ছোট বাচ্চা যার বয়স চার বছরও হয় নাই; সে চিৎকার করে কান্না করছিল এবং তারা (আক্রমণকারীরা) উল্লাস করছিল।

সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, একদল ব্যক্তি বাঁধনের দিকে পানি ছুড়ছে। তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণও করা হয়। এ সময় কোলে বাচ্চা নিয়ে এক ব্যক্তি আক্রমণ ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। ঘটনাস্থলে ওই ব্যক্তির স্ত্রীও ছিলেন, যিনি আক্রমণকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। বাঁধন এক পোস্টে তাদেরকে কাজিন ও তার পরিবার বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। পরে বাঁধন সাবেক সাংবাদিক নাজমুস সাকিবকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ঘটনার পর ফোন পেয়ে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, তারা যেভাবে আসলে বাংলাদেশের একজন নাগরিককে, একজন নারীকে যেভাবে আঘাত করেছে, সেইটার জন্য আমি আশা করি যে এখানে আমি জাস্টিস পাব। আমি কমপ্লেইন করব, আমি কেস ফাইল করব, তারপরে আমি এ দেশ থেকে যাব। আমি এখানকার আমাদের যে এম্বাসি আছে; তাদেরকে বলে যাব ফলোআপ করার জন্য। যেহেতু আমি এখানে থেকে আসলে কেসটা কন্টিনিউ করতে পারছি না, বাট আমি এনশিওর করব যে এখানে যারা অবৈধভাবে আছেন, তারা যাতে অ্যারেস্টেড হয়। এবং যারা বৈধভাবেও আছেন, তারা আসলে এটা একটা অফেন্স করেছে। সো, এটা তো একটা দণ্ডনীয় অপরাধ। সো সেই অপরাধের শাস্তি যাতে তারা পায়, ডেফিনেটলি।

বিষয়টি নিয়ে গতকাল দুপুরে ফেসবুক লাইভে আসেন এ অভিনেত্রী। সেখানে তিনি বলেছেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষ না করে দেশে ফিরব না। আমি কেস ফাইল না করে ভেনিস থেকে বাংলাদেশে ফিরছি না। এটার শেষ আমি দেখে ছাড়ব। বাঁধন বলেন, আমার সাথে যে ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে, যারা এটি করেছেন তারা নিজেদের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলে পরিচয় দিয়েছেন। এই ঘটনার পর থেকে প্রচুর মানুষ আমাকে ফোন করছেন ও খবর নিচ্ছেন। আমি সবাইকে বলতে চাই, আমি ঠিক আছি।

ওই ঘটনার পর ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাস ও সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের কাছে সব প্রমাণ আছে এবং ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করেছি। দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে আমি থানায় যাচ্ছি কেস ফাইল (মামলা) করতে। বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

অভিনেত্রী বলেন, আমাকে ভয় দেখিয়ে দমানো যাবে না। তবে আমার জন্য আমার ছোট ভাই, তার স্ত্রী এবং তাদের তিন বছরের ছোট বাচ্চা যেভাবে হেনস্তা ও শারীরিক আক্রমণের শিকার হয়েছে, তাতে আমি ভীষণভাবে মর্মাহত। এটা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। আমাকে ভেঙে ফেলা এত সহজ নয়। আমি কখনো মাথা নত করিনি, আর তা করতে ভুলেও গেছি।

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। আমি মনে করি, এটি আমার জীবনে নেওয়া অন্যতম সঠিক সিদ্ধান্ত। আমি একজন গর্বিত জুলাই যোদ্ধা। বিপদের দিনে দেশের মানুষ যেভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তার জন্য আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে এক সপ্তাহে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত পাঁচ শতাধিক
পরবর্তী নিবন্ধবিরোধ মীমাংসার বৈঠকে ছুরিকাঘাত, সাতকানিয়ায় যুবক নিহত