ডিসেম্বরে চালু হচ্ছে চট্টগ্রামের দ্বিতীয় আউটার রিং রোড। আর এটি চালু হলে নগরীর কালুরঘাট থেকে মাত্র ১০ মিনিটে পৌঁছানো যাবে শাহ আমানত সেতুতে। সড়ক ও বাঁধের কালুরঘাট অংশে মাত্র ২শ মিটার কাজ বাকি রয়েছে। এটুকু সম্পন্ন হলে রাস্তাটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। নগরীর যানজট নিরসন, জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ এবং কর্ণফুলী নদীর তীর ঘিরে নতুন নগরজীবনের স্বপ্ন নিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সূত্র জানিয়েছে, নগরীর কালুরঘাট থেকে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সড়ক–কাম বাঁধ নির্মাণ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ২ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পকে ঘিরে গড়ে উঠছে নগর রক্ষা বাঁধ, আধুনিক জলনিষ্কাশন ব্যবস্থা, নদীতীরভিত্তিক বিনোদন অবকাঠামো এবং প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ওয়াকওয়ে। কর্ণফুলী নদীর তীরজুড়ে তৈরি হচ্ছে এমন একটি উন্মুক্ত জনপরিসর, যেখানে নগরবাসী হাঁটতে, অবসর কাটাতে এবং নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের আদলে এই এলাকা ভবিষ্যতে চট্টগ্রামের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারে। প্রকল্পটির কাজ এখন একেবারে শেষ পর্যায়ে। ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের এই সড়কের মাত্র ২০০ মিটার অংশের নির্মাণকাজ বাকি রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে যান চলাচলের জন্য সড়কটি উন্মুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে। প্রকল্পটি চালু হলে কালুরঘাট থেকে কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু এলাকায় পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ১০ মিনিট। একই সঙ্গে নগরীর দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।
সূত্র জানায়, শাহ আমানত সেতুর চাক্তাই খালের মুখ থেকে কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ–কাম সড়ক নির্মাণের এই প্রকল্প চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো উদ্যোগ। প্রকল্পে সড়কের পাশাপাশি বোটপাসসহ ১২টি আধুনিক স্ল্যুইচগেট নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চাক্তাই ও রাজাখালী খালের মুখে নির্মিত দুটি বড় রেগুলেটর জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার পর করোনা মহামারিসহ নানা জটিলতায় নির্মাণ কার্যক্রম দীর্ঘ সময় বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে দুই দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়াতে হয়েছে। সর্বশেষ চলতি জুনে কাজ শেষ হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। এখন আরো ছয় মাস সময় বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে ৯ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে সাড়ে ৮ কিলোমিটারের বেশি অংশের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে। কালুরঘাট অংশে দুইশ মিটারের মতো এবং শাহ আমানত সেতু সংলগ্ন এলাকায় সামান্য অংশে সড়কের নির্মাণকাজ চলছে। একইভাবে ১২টি স্ল্যুইচগেটের মধ্যে ১১টির নির্মাণ শেষ হয়ে ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। বাকি একটি ছোট স্ল্যুইচগেটের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, নেদারল্যান্ডস থেকে আনা আধুনিক গেট ও পাম্প স্থাপনের ফলে বর্ষাকালে জোয়ারের সময় নদীর পানি সহজে নগরীতে প্রবেশ করতে পারে না। প্রয়োজন অনুযায়ী গেট বন্ধ রেখে পাম্পের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন করা হয়। আবার ভাটার সময় গেট খুলে দিয়ে স্বাভাবিকভাবে পানি বের করে দেওয়া হয়। গত বর্ষায় চালু হওয়া ১১টি স্ল্যুইচগেটের কারণে নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে তারা দাবি করেন।
চট্টগ্রামের প্রথম আউটার রিং রোড পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত বিস্তৃত। দ্বিতীয় এই আউটার রিং রোড সেটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে বায়েজিদ, অনন্যা আবাসিক এলাকা, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, কালুরঘাট এবং শাহ আমানত সেতুকে একটি পূর্ণাঙ্গ রিং নেটওয়ার্কে যুক্ত করবে। ফলে নগরীর কেন্দ্রভাগে যানবাহনের চাপ কমবে।
প্রকল্প পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার রাজীব দাশ আজাদীকে বলেন, চার লেনের সড়কের প্রায় পুরো কাজ শেষ। অবশিষ্ট অংশের নির্মাণ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। একটি ছোট স্ল্যুইচগেট ছাড়া অন্য সব রেগুলেটর ও পাম্প চালু রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দ্বিতীয় আউটার রিং রোড যান চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।
তিনি বলেন, প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এটি চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ, নদীতীর সংরক্ষণ, নগর যোগাযোগ এবং পর্যটন বিকাশ–এ চার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নদীতীরের ওয়াকওয়ে ও উন্মুক্ত বিনোদন অবকাঠামো নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্পেও নতুন মাত্রা যোগ করবে।










