বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, যতই বুলি আওড়াক না কেন, আর কোনোদিন পতিত স্বৈরাচার এদেশে ফিরে আসবে না। তবে সরকারকে অনুরোধ জানাব, তাদেরকে ফিরিয়ে এনে অতিদ্রুত বিচার করতে হবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ফ্যাসিবাদকে ফিরিয়ে আনতে রাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গা থেকে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। যে স্বৈরাচার এদেশ থেকে পালিয়ে গেছে, তাদের আর ফিরে আসার সুযোগ নেই। পৃথিবীর ইতিহাস এর বাস্তব সাক্ষী। তাই ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্ত সফল হবে না। এছাড়া পদবিধারী কোনো নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কেউ স্থানীয় নির্বাচনেও অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে না বলে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেন।
ছাত্র–জনতার ঐতিহাসিক জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর অর্জিত জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই সনদ কেবল একটি কাগজের দলিল নয়, এটি লাখো মানুষের ত্যাগ, রক্ত এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারের প্রতীক। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, গণভোটের রায় মেনে নিয়ে অতিদ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করা হয়, তবে তা শহীদ ও রাজপথের লড়াকু তরুণদের চেতনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করার শামিল হবে। একটি দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে আমরা এই বিশ্বাসঘাতকতা বরদাস্ত করব না। তিনি বর্তমান প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, দুর্নীতিগ্রস্ত ও অতীতের ব্যর্থ লোকদের নিয়ে সরকার গঠন করা হয়েছে, যাদের অনেকের নামে দুর্নীতি ও ঋণখেলাপির নানা অভিযোগ রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে নানা বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম তৈরি হচ্ছে এবং দেশের জনগণ বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে। সংগঠনের দায়িত্বশীলদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংগঠনের এই পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের নিউক্লিয়াসের ভূমিকা পালন করতে হবে। এই নিউক্লিয়াসগুলো সঠিক পথে থাকলে সংগঠন কখনো পথ হারাবে না। তাই আমাদের সাংগঠনিক, দ্বীনি ও রাজনৈতিক যোগ্যতাসম্পন্ন নেতৃত্ব হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে থানা ও ওয়ার্ড কর্মপরিষদ সদস্যদের নিয়ে দুদিন ব্যাপী শিক্ষা শিবিরের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর চন্দনপুরাস্থ সাফা আর্কেড কমিউনিটি সেন্টারে এই শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হয়।
জামায়াতে ইসলামীর মহানগরী আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মাদ নুরুল আমিন ও অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশারের সঞ্চালনায় শিক্ষা শিবিরে দারসুল কোরআন পেশ করেন প্রফেসর ড. আবদুস সামাদ।
সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ইসলাম দ্বীনি ইলমের পাশাপাশি দুনিয়াবি জ্ঞান অর্জনের ওপরও গুরুত্বারোপ করে। এক্ষেত্রে সমসাময়িক জ্ঞানে জ্ঞানান্বিত হতে হবে এবং এই আধুনিক ও প্রযুক্তির যুগে প্রযুক্তিগত জ্ঞানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ ও ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, নগর অফিস সম্পাদক হামেদ হাসান এলাহী, মাওলানা মমতাজুর রহমান, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসাইন এবং কোতোয়ালী থানা আমির আমির হোসাইন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।











