‘শহরটাকে তোমরা শেষ করে দিচ্ছ। অন্যায় করবা তোমরা, আর মানুষ সারাক্ষণ মেয়রের দোষ দেয়।’ গতকাল দুপুরে নগরের দক্ষিণ হালিশহর নেভী হাসপাতালের গেইটের সামনে রাস্তার পাশের ড্রেনে পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করায় এভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এসময় সেখানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীদের উপর অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। একইসঙ্গে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। মেয়র চট্টগ্রাম শহরকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও স্বাস্থ্যকর নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
ডা. শাহাদাত হোসেন এদিন আগ্রাবাদ থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় নগরের সৌন্দর্যবর্ধন, অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ফুটওভার ব্রিজ এবং সড়কের মিড আইল্যান্ডে চলমান সবুজায়ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন তিনি। এসময় ফুটওভার ব্রিজে বিভিন্ন ব্যানার দেখে তা নিজেই সরিয়ে দেন।
পরিদর্শনকালে দক্ষিণ হালিশহর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে নির্মিত ফুটওভার ব্রিজে লাগানো অবৈধ ব্যানার ও পোস্টার নিজ হাতে অপসারণ করেন মেয়র। এসময় তিনি বলেন, ফুটওভার ব্রিজ, সড়ক ও অন্যান্য জনসাধারণের স্থাপনায় অবৈধভাবে ব্যানার–পোস্টার লাগানো শুধু দৃষ্টিকটু নয়, এটি নগরীর সৌন্দর্যও নষ্ট করে। এ ধরনের কার্যক্রম কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
এ সময় বিদ্যালয় সংলগ্ন কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে রাস্তার পাশের ড্রেনে পানি প্রবাহের পথ দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি মেয়রের নজরে আসে। এসময় ‘সাদিয়াস কিচেন’ নামে একটি রেস্টুরেন্টের রান্নার গ্যাস ফুটপাতে রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মেয়র।
মেয়র ড্রেনে পানি প্রবাহের পথ দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করার কারণে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে উল্লেখ করে তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব আশরাফুল আমিনকে ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম শহরকে এগিয়ে নিতে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। চট্টগ্রামকে ক্লিন, গ্রীন ও হেলদি সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে শুধু সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, নগরবাসীরও সচেতন ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি সম্পদ রক্ষা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নগরীর সৌন্দর্য সংরক্ষণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, ড্রেন, নালা ও পানি চলাচলের পথ দখল করে কোনো ধরনের ব্যবসা বা স্থাপনা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সুষ্ঠু পানি নিষ্কাশনের স্বার্থে অবৈধ দখল উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি বিমানবন্দর থেকে মোহরা পর্যন্ত সড়কের মিড আইল্যান্ডে চলমান সবুজায়ন কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকির জন্য সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। এসময় মেয়র বলেন, মিড আইল্যান্ডে অবৈধভাবে ময়লা–আবর্জনা কিংবা ব্যবসায়িক সামগ্রী রেখে সিটি কর্পোরেশনের রোপণ করা গাছপালার ক্ষতি করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরীর পরিবেশ রক্ষা, সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য সবুজায়ন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও আধুনিক চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে সিটি কর্পোরেশন কঠোরভাবে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও অব্যাহত রাখবে।
মেয়র রেকর্ড বৃষ্টিতে আগ্রাবাদ থেকে বিমানবন্দর এলাকায় যে সমস্ত রাস্তা নষ্ট হয়েছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় করে দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চসিকের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমানকে নির্দেশ দেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, আনোয়ার জাহান ও উপ–প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা।











