ইয়েমেনের ইরান–সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা বন্দর নগরী মোখা দখল করে নিয়েছে। এর ফলে হুতিরা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ বাব আল–মান্দেব প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। খবর বিডিনিউজের।
ইয়েমেনের সামরিক কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার মোখা হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার খবর জানান। ইয়েমেন সরকারের চার সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিদ্রোহী হুতি গোষ্ঠী বাব আল–মান্দেব প্রণালি (লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশদ্বার এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপরিবহন রুট) নিয়ন্ত্রণে নিতে আরও সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছেছে। একইসঙ্গে তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হানিশ দ্বীপপুঞ্জেও হামলা চালাচ্ছে। ২৮ মার্চ ইসরায়েলে হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে হুতিরা ইরানের পাশাপাশি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। তবে জুলাই মাসে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা এবং সেপ্টেম্বর মাসে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে হামলা জোরদার করার আগ পর্যন্ত হুতিরা মূলত শান্তই ছিল।
বিশ্বের বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব লোহিত সাগরের নৌপথের ওপর নির্ভর করছে। কারণ ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, যে জলপথ দিয়ে একসময় বিশ্বের মোট তেলের এক–পঞ্চমাংশ (২০%) পরিবহন হত। চীনের মধ্যস্থতায় সম্পর্কের বরফ গলার উন্নতির পরও, রিয়াদ এবং তেহরান দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী এবং একে অপরকে গভীরভাবে অবিশ্বাস করে। বৃহস্পতিবার ওই অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করেছে। হুতিরা হামলা চালালে সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চতুর্থবারের মতো দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতে জরুরি সতর্কতা জারি করে।
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও ইরানের সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সংকট যাতে আরও মারাত্মক আকার ধারণ না করে সেজন্য ইয়েমেনের হুতি মিত্রদের নিবৃত্ত করতে ইরানকে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা পৌঁছে দিয়েছে পাকিস্তান। এক উর্ধতন ইরানি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, পাকিস্তান মঙ্গলবার তেহরানকে বার্তাটি পৌঁছে দিয়েছে। তবে এই বার্তার জবাবে ইরানি ওই কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেছেন, হুতি বিদ্রোহীদের ওপর ইরানের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই।
আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত সরকারে সৌদি আরবের ইয়েমেনি মিত্র এবং হুতিদের মধ্যে ইয়েমেনে ক্রমবর্ধমান সংঘাত এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে তাদের সবচেয়ে বড় পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। ইরান সমর্থিত প্রতিরোধের অক্ষের অংশ হিসেবে বিবেচিত ইয়েমেনের হুতিরা গাজা যুদ্ধে ফিলিস্তিনিদেরকেও সমর্থন জানিয়েছে; তারা ইসরায়েলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে এবং লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে।











