১০ বছরেও দেখেনি আলোর মুখ

আজাদী প্রতিবেদন | শুক্রবার , ৩ জুন, ২০২২ at ৪:২০ পূর্বাহ্ণ

অর্থের সংস্থান না হওয়ায় ১০ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি জান আলী হাট থেকে চুয়েট (চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়) হয়ে কাপ্তাই পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্পটি। চট্টগ্রাম থেকে রাউজানরাঙ্গুনিয়া হয়ে ট্রেন যাবে অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা কাপ্তাইয়ে। রেলওয়ের এই প্রকল্পে ব্যাপক আশা জাগিয়েছিল এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে। এই প্রকল্পের কথা শোনা যাচ্ছিল আজ থেকে ১০ বছর আগে থেকে। সমীক্ষা শুরু হওয়ায় এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে প্রকল্পটি আশার আলোর সঞ্চার করেছিল। শেষ পর্যন্ত সমীক্ষাও শেষ হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। চট্টগ্রামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটি গত ১০ বছর ধরে ফাইলবন্দী হয়ে আছে। প্রকল্পটির ব্যাপারে রেল কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো আগ্রহই দেখা যাচ্ছে না। অর্থের সংস্থান না হওয়ায় প্রকল্পের কাজ বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে।

রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগ থেকে জানা গেছে, প্রকল্পের সমীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে ২০১৯ সালে। ডাবল গেজ রেল লাইনের একটি নকশাও প্রণয়ন করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের কাজ শুরু করে ২০২৬ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনাও ছিল। অথচ পূর্বাঞ্চলের অন্যতম এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য এখনো অর্থের সংস্থানই হয়নি। কবে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবেতা রেল কর্মকর্তারাও জানেন না। এই ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা এস এম সলিমুল্লাহ বাহার আজাদীকে জানান, এখনো প্রকল্পের অর্থের সংস্থান হয়নি। অর্থের সংস্থান হলে তখন প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকৌশল এবং পরিকল্পনা বিভাগ থেকে জানা গেছে, নগরীর জান আলীহাট থেকে চুয়েট হয়ে কাপ্তাই পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটারের ডুয়েলগেজ রেল লাইন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ প্রস্তাব করা হয়েছে ৭ হাজার ১৪১ কোটি টাকা। পার্বত্য চট্টগ্রামের কাপ্তাইয়ে ট্রেন গেলে পার্বত্য অঞ্চলের ট্যুরিজম সেক্টরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হবে। এই অঞ্চলের সাথে সারাদেশের রেলের নেটওয়ার্ক তৈরি হতো। খুব সহজে পাবর্ত্য অঞ্চলের কৃষিজফলজ পণ্য সামগ্রী চট্টগ্রামসহ সারাদেশে পরিবহন করা যেতো। পার্বত্য অঞ্চলবাসীর জীবনজীবিকার মান উন্নয়ন হতো। রাউজানরাঙ্গুনিয়াবাসীর যাতায়াতের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নতি হতো। সব মিলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পটি বারবার পিছিয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলের মানুষ হতাশ হচ্ছে বারবার।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মেকানিক্যাল বিভাগের এক প্রকৌশলী জানান, এই পাহাড়ি অঞ্চলসহ অনেক বনাঞ্চল দিয়ে রেল লাইন নিতে হবে, তাই প্রকল্প ব্যয় একটু বেশি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপাওয়ার আশায় নয়, মানুষের জন্য কাজ করতে হবে নিঃস্বার্থভাবে
পরবর্তী নিবন্ধনতুন আপদ গাছ ভেঙে পড়া