নির্মাণ সামগ্রী আসছে, অর্থছাড় না হওয়ায় খালাসে বিলম্বের শঙ্কা

জাহেদুল কবির | মঙ্গলবার , ২১ এপ্রিল, ২০২৬ at ৫:৫৯ পূর্বাহ্ণ

নগরীর গোয়াছি বাগান এলাকায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিট প্রকল্পের কাজের চীনা নির্মাণ সামগ্রী আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছাবে। তবে এখন পর্যন্ত প্রকল্পের তৃতীয় কিস্তির অর্থছাড় হয়নি। ফলে চীনা নির্মাণ সামগ্রী খালাসে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। কারণ প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী, চীন থেকে আমদানিকৃত প্রয়োজনীয় নির্মাণ সামগ্রীর ভ্যাটট্যাক্স পরিশোধ করছে সরকার। গত বছরের শুরুর দিকে যথা সময়ে অর্থছাড় না হওয়ার কারণে অনেক নির্মাণ সামগ্রী খালাস করা সম্ভব হয়নি। ফলে কাজের গতি কমে যায়। পরে অবশ্য সেই জটিলতা কেটে যাওয়ায় কাজের গতি বাড়ে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে হাসপাতালের মূল ভবনের তৃতীয় তলা ছাদ ঢালাইয়ের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া ইক্যুইপমেন্ট বিল্ডিংয়ের কাজও চলছে। ভারি বৃষ্টিতে যাতে মূল ভবনের ওপর পাহাড় ধসে না পড়ে তাই পার্শ্ববর্তী পাহাড়ের সয়েল নেইলিং (খাড়া পাহাড় কেটে ঢালু করা) করে কলাম বসানো হয়েছে। ঘাস লাগানোর কাজ চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ ৪০ শতাংশের মতো শেষ হয়েছে। চলতি বছরের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হয়েছে। তবে চীনা প্রকৌশলীদের লক্ষ্য হচ্ছে আগামী বছরের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ শেষ করা।

জানা গেছে, বর্তমানে চমেক হাসপাতালের ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে অগ্নিদগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে গুরুতর আগুনে পোড়া রোগীদের বিভিন্ন যন্ত্রপাতির সংকট ও নানা সমস্যার কারণে এখানে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হয় না। ফলে এসব রোগীকে ঢাকার বিশেষায়িত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে ছুটতে হয়। সেখানে সারাদেশের রোগীদের চাপ থাকায় অনেক সময় চিকিৎসকদের চিকিৎসা দিতেও হিমশিম খেতে হয়। বিশেষ করে অগ্নিদগ্ধদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ আলাদা।

বার্ন ইউনিট প্রকল্পের পরিচালক এবং চমেক হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিক উদ্দিন আহমেদ দৈনিক আজাদীকে বলেন, বার্ন ইউনিট প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে চীন থেকে নির্মাণ সামগ্রী আসছে। সেই সব নির্মাণ সামগ্রী খালাসে অর্থ ছাড়ের জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেছি। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে ৩০ কোটি টাকার মতো প্রয়োজন হবে। আশা করি যথাসময়ে অর্থছাড় হবে এবং প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হবে না।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন দৈনিক আজাদীকে বলেন, বার্ন ইউনিট প্রকল্পের কাজের বেশ অগ্রগতি হয়েছে। অর্থছাড়ের বিষয়টি দ্রুত সমাধানের দিকে রয়েছে। আশা করি, প্রকল্পের কাজ পুরোদমে চলবে।

উল্লেখ্য, চমেক হাসপাতালের গোঁয়াছি বাগান এলাকায় ১৫০ বেডের বিশেষায়িত ‘চায়না এইড প্রজেক্ট অব বার্ন ইউনিট অব সিমসিএইচ ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা অনুমোদন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় গত ২০২৪ সালের ১২ জুন। এর আগে ২০২৪ সালের ৯ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বার্ন ইউনিট প্রকল্পের অনুমোদন দেয় তৎকালীন সরকার। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ২৮৪ কোটি ৭৬ লাখ ৫১ হাজার ৫৫৫ টাকা। এর মধ্যে চীন দেবে ১৭৯ কোটি ৮৩ লাখ ১৯ হাজার ৬০০ টাকা এবং সরকার দেবে ১০৪ কোটি ৯৩ লাখ ৩১ হাজার ৯৫৫ টাকা। এছাড়া চীন থেকে আমদানিতে ট্যাঙ ভ্যাট বাবদ ৭০ কোটি টাকাসহ সংযোগ রাস্তা, সীমানা প্রাচীর, বৈদ্যুতিক সংযোগ, দুটি অ্যাম্বুলেন্স ও কেমিক্যাল রিঅ্যাজেন্ট আনার খরচ ধরা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ছয় তলা ভবন, জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, ল্যাবরেটরি, অপারেশন থিয়েটার, ১০টি আইসিইউ বেড, ১০টি পুরুষ এইচডিইউ বেড, ১০টি মহিলা এইচডিইউ বেড ও ৫টি শিশু এইচডিইউ রয়েছে। এছাড়া ১১৫ বেডের ওয়ার্ডে মহিলাদের জন্য বেড রাখা হয়েছে ৪৫টি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকর্ণফুলীতে ৩১২ কোটি টাকার নিষিদ্ধ জাল জব্দ
পরবর্তী নিবন্ধএসএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আজ