পেট্রল, অকটেন, ডিজেল এবং এলপিজি দাম বাড়ানোর তাৎক্ষণিক বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পরিবহন খাতে। ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান এবং কন্টেনার মুভারের ভাড়া বেড়ে গেছে, বেড়ে গেছে গণপরিবহনের ভাড়াও। দেশের বেসরকারি কন্টেনার ডিপোগুলো জ্বালানি সারচার্জ হিসেবে সাড়ে ৮ শতাংশ ট্যারিফ বাড়িয়ে দিয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ নৌ রুটে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত লাইটারেজ জাহাজগুলোও অন্তত ১৫ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর দাবি করছে। আগামীকাল নৌ পরিবহন অধিদপ্তরে এই ব্যাপারে সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভা থেকে ভাড়া বাড়ানোর ব্যাপারটি নিশ্চিত করা হবে। ২২ এপ্রিল মিটিং হলেও বর্ধিত ভাড়া কার্যকর হবে ১৯ এপ্রিল থেকে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে গেছে। পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির ফলে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করবে বলে আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা, অকটেন ১২০ থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা এবং পেট্রলের দাম ১১৬ থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি কেজিতে ১৭ টাকা ৬২ পয়সা বাড়ানো হয়েছে এলপিজির দাম। রোববার থেকে জ্বালানি তেলের নতুন দর কার্যকর হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরোক্ষ শর্তে দেশের বাজারে তেলের দাম বাড়ানো হয় বলে সূত্র জানিয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানোর জন্য তেলের দাম বাড়ানো হয়। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে দেশের অন্যতম প্রধান পণ্য পরিবহন রুট ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে পরিবহন ভাড়া বেড়ে গেছে। চট্টগ্রাম বন্দর এবং চাক্তাই খাতুনগঞ্জ থেকে পণ্য পরিবহনে আগের চেয়ে বেশি ভাড়া গুণতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, সামপ্রতিক সময়ে জ্বালানি সংকটের কারণে ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে পণ্য পরিবহনভাড়া ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান এবং কন্টেনার মুভারের ভাড়া ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকরের ফলে এই ভাড়া আরো বাড়ানো হচ্ছে। অপরদিকে বেসরকারি কন্টেনার ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডা থেকে জানানো হয়েছে, ডিজেলের মূল্য ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি করার কারণে ডিপোতে কন্টেনার হ্যান্ডলিংয়ে জ্বালানি সারচার্জ আরোপের কোন বিকল্প নেই। এই অবস্থায় গত ১৯ এপ্রিল থেকে ডিপোগুলোতে জ্বালানি সারচার্জ হিসেবে সাড়ে ৮ শতাংশ ট্যারিফ বাড়ানো হয়েছে। এরমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর এবং আইসিডির মধ্যে খালি কন্টেনার পরিবহন, পতেঙ্গা কন্টেনার টার্মিনাল (পিসিটি) এবং আইসিডির মধ্যে খালি কন্টেনার পরিবহন, খালি কন্টেনার লিফট–অন বা লিফট–অফ চার্জ। রপ্তানি পণ্য স্টাফিং/হ্যান্ডলিং প্যাকেজ চার্জ বিশেষ করে এম্পটি ইয়ার্ডে খালি কন্টেনার লিফট–অন, এম্পটি ইয়ার্ড থেকে সিএফএস শেড পর্যন্ত খালি কন্টেনার পরিবহন, খালি কন্টেনারে রপ্তানি পণ্য স্টাফিং, স্টাফিংয়ের পর লোড ইয়ার্ডে রপ্তানি লোডেড কন্টেনার পরিবহন, লোড ইয়ার্ডে রপ্তানি লোডেড কন্টেনার লিফট–অফ, ভেসেল নমিনেশনের পর লোড ইয়ার্ডে রপ্তানি লোডেড কন্টেনার লিফট–অন এবং চট্টগ্রাম বন্দরে রপ্তানি লোডেড কন্টেনার পরিবহন। রপ্তানি লোডেড কন্টেনার ভিজিএম চার্জ বিশেষ করে লোড ইয়ার্ডে রপ্তানি লোডেড কন্টেনার উত্তোলন, লোড ইয়ার্ড থেকে ওয়েইং স্কেল পর্যন্ত রপ্তানি লোডেড কন্টেনার পরিবহন, ওয়েইং স্কেলে রপ্তানি লোডেড কন্টেনারের ওজন পরিমাপ, রপ্তানি লোডেড কন্টেনার পুনরায় লোড ইয়ার্ডে পরিবহন, লোড ইয়ার্ড থেকে রপ্তানি লোডেড কন্টেনার উত্তোলন।
আমদানি পণ্য ডেলিভারি প্যাকেজ চার্জে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আইসিডি পর্যন্ত আমদানি লোডেড কন্টেনার পরিবহন, আইসিডিতে লোডেড কন্টেনার উত্তোলন, আমদানি ডেলিভারি ইয়ার্ডে লোডেড কন্টেনার স্থাপন, কন্টেনার থেকে শ্রমিকসহ ট্রাকে আমদানি পণ্য ডেলিভারি। বেসরকারি আইসিডিগুলো উপরোক্ত কার্যক্রমে সর্বশেষ ট্যারিফের সাথে সাড়ে ৮ শতাংশ জ্বালানি সারচার্জ আরোপ করেছে। দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্য সরবরাহ নেটওয়ার্ক টিকিয়ে রাখার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হচ্ছে নৌ রুট। লাইটারেজ জাহাজগুলো এই রুটে পণ্য পরিবহন করে থাকে। গতকাল লাইটারেজ জাহাজগুলো ভাড়া বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এই ব্যাপারে আগামী ২২ এপ্রিল ঢাকায় নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দপ্তরে জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে। ওই সভা থেকে জাহাজের বর্ধিত ভাড়া নির্ধারণ করা হবে। তবে বর্ধিত ভাড়া কার্যকর হবে ১৯ এপ্রিল থেকে।
লাইটারেজ জাহাজের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেশন সেলের (বিডব্লিউটিসিসি) কনভেনর হাজী সফিক আহমেদ বলেন, জাহাজ ভাড়া বাড়বে। এটা আমরা আজকেই বলে দিয়েছি। তবে রেট নির্ধারণ হবে আগামী ২২ এপ্রিল। নৌ পরিবহনের অধিদপ্তরের ডিজি মহোদয়ের অফিসে বৈঠকে রেট নির্ধারিত হবে। তবে বর্ধিত ভাড়া কার্যকর হবে ১৯ এপ্রিল থেকে। পণ্য পরিবহনের সবগুলো সেক্টরে ভাড়া বেড়ে যাওয়ার প্রভাব সরাসরি দেশের উৎপাদন এবং পণ্যবাজারে পড়বে বলে উল্লেখ করে সূত্র বলেছে, এর ধাক্কা সামলাতে হবে দেশের সাধারণ ভোক্তাদের। যার প্রভাব জনজীবনে পড়বে বলেও সূত্রগুলো মন্তব্য করেছে।














