১৫ দিনের ব্যবধানে মীরসরাই উপজেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে যমজ দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো. নোমান নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এর আগে প্রায় ১৫ দিন আগে তার যমজ ভাই মো. ফাহিম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। নিহত দুই শিশুর বয়স ছিল ১৩ মাস।
যমজ দুই শিশু ফাহিম ও নোমান উপজেলার ১২নং খৈয়াছড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব খৈয়াছড়া তাকিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা হারুন উর রশিদের সন্তান। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তাদের বাবা-মা।
দুই শিশুর বাবা হারুন উর রশিদ বলেন, ‘সরকারিভাবে যখন বিভিন্ন এলাকায় হামের টিকাদান কর্মসূচি চলছিল, তখন আমি আমার দুই শিশুকে টিকা দেওয়ার জন্য নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু দায়িত্বে থাকা কর্মীরা জানান টিকা শেষ হয়ে গেছে। পরে আর টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। কিছুদিন পর আমার বড় ছেলে ফাহিম অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে আট দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফাহিমের মৃত্যুর পর চিকিৎসকরা জানান নোমানের অবস্থাও ভালো নয়, তাকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরেও সিট না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ঢাকা শিশু হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করাই। সেখানে আট দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার রাতে নোমানও মারা যায়। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে আমার দুই সন্তানকে হারালাম। কোনোভাবেই নিজেকে শান্ত করতে পারছি না।’
স্থানীয় তাকিয়াপাড়া নূরানী মাদ্রাসার শিক্ষক মো. কাউসার বলেন, ‘বড়তাকিয়া বাজারের ব্যবসায়ী হারুন-উর রশিদের যমজ দুই শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, প্রতিটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেন পর্যাপ্ত পরিমাণে হামের টিকা সংরক্ষণ করা হয়।’
এ বিষয়ে মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার নাছির উদ্দিন বলেন, ‘হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হলে রোগীর তথ্য সংরক্ষিত থাকে।’ টিকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’












