কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে ভেসে আসা আরও একটি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে ১২ দিনের ব্যবধানে উপকূলের বিভিন্ন স্থান থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট সংলগ্ন বিজিবি বিওপির সামনে নাফ নদীর তীর থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে নাফ নদীর তীরে একটি মরদেহ ভেসে আসার খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। এখনো মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ধারাবাহিকভাবে মরদেহ ভেসে আসার সঙ্গে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়াগামী মানবপাচার কিংবা ট্রলারডুবির যোগসূত্র থাকতে পারে। খবর বিডিনিউজের।
শাহপরীর দ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সনজীব বলেন, দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় মরদেহটির চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মৃত যুবকের পরনে ছিল গাঢ় নীল রঙের হাফ প্যান্ট ও হালকা সবুজ রঙের জার্সি। মুখে হালকা দাড়ি–গোঁফ রয়েছে। শরীরের বিভিন্ন অংশের ত্বকের রঙ পরিবর্তিত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শরীরে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তার বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে পারে বলে এসআই সনজীব বলেন।
টেকনাফ নৌ পুলিশের এসআই সুমন চন্দ্র নাথ বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, মৃত ব্যক্তি বাংলাদেশি নাকি রোহিঙ্গা তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এক যৌথ বিবৃতিতে দুটি মালয়েশিয়াগামী ট্রলার ডুবির তথ্য জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারের শরণার্থীরা এখনো নিরাপত্তা ও উন্নত জীবনের আশায় বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রার ঝুঁকি নিচ্ছেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী নৌকা দুটি জুনের শেষের দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রওনা হয়েছিল। এতে থাকা যাত্রীদের বেশির ভাগই রোহিঙ্গা। তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক বাংলাদেশের কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির থেকেও গিয়েছিলেন।
পুলিশ বলছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো সেই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত কিনা তা তাদের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
স্থানীয়রা বলছেন, কয়েক দিন ধরে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল বঙ্গোপসাগরের কারণে সমুদ্র ও নাফ নদীর বিভিন্ন এলাকায় মরদেহ ভেসে আসার আশঙ্কা বেড়েছে।












