ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা ময়দানে আওলাদে রাসূল আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ (মাজিআ) এর বিদায়ী জুমায় হাজারও মুসল্লির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত বক্তব্যে বলেন, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সকল সৃষ্টির মধ্যে মানুষকে বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী দিয়ে সৃষ্টি করে তাদের আশরাফুল মাখলুকাত করেছেন। মানুষকে পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়েছেন, ভালোমন্দ বিচার ক্ষমতা দিয়েছেন আর দিয়েছেন ইচ্ছা শক্তি। যারা এ গুণগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করেছেন, আল্লাহর ওয়াহাদানিয়ত ও নবীর রিসালত স্বীকার করেছেন এবং ঈমানের উপর সুদৃঢ় থেকেছেন তারা সফল। আর যারা তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা শয়তানের ধোকায় পড়েছেন। শয়তান আল্লাহর অভিশপ্ত সৃষ্টি, হযরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টির পর সমস্ত ফেরেস্তাদের নবীর আনুগত্যে সিজদা করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু শয়তান নিজেকে আগুনের সৃষ্টি দাবি করে মাটির সৃষ্টিকে সিজদা করতে অস্বীকার করে ইবলিশ হয়েছে। কারণ সে একদিকে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করেছে অপরদিকে নবীর সাথে বেয়াদবি করেছে, পরিণতিতে সে অভিশপ্ত ইবলিশ হয়েছে, তাকে আল্লাহ মানবজাতিকে পরীক্ষা করার উপলক্ষ করেছেন, নফসে আম্মারায় তার অবস্থান, সুতরাং যে সব বান্দা আল্লাহর ইবাদত করবেন, রাসূলে করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি মুহাব্বত রাখবেন তাদের নফসে আম্মারা তথা শয়তানের কুপ্রবৃত্তি কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। নফসে মুতমাইন্না তাদের নিয়ন্ত্রণ করবে। তিনি বলেন, আমাদের সমস্ত ইবাদত বন্দেগি একমাত্র আল্লাহর জন্য, আর মুহাব্বত হুজুর করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য। মুসলমান দাবি করে কেউ যদি আল্লাহর হাবীবের প্রতি মুহাব্বত না রাখেন তার কোনো ইবাদত আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। তিনি পবিত্র কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আল্লাহ তাঁর ফেরেস্তাদের নিয়ে তাঁর হাবীবের উপর দরুদ পড়ছেন, আর ঈমানদার বান্দাদের নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহর হাবীবের উপর দরুদ ও সালাম পেশ করার জন্য। যারা এ নির্দেশ অমান্য করবে তারা নিঃসন্দেহে মুমিন নয়। মিলাদুন্নবী উদযাপন আর দরুদ শরীফ পাঠ করাকে যারা অস্বীকার করেন তাদের দুর্ভাগা ও বিভ্রান্ত হিসেবে উল্লেখ করে হুজুর কেবলা শয়তানের কুপ্রবৃত্তি থেকে নিজেদের রক্ষা করতে আপন পীর মুর্শিদের নির্দেশিত পথ ও মতে চলার জন্য আহ্বান জানান। তিনি সিলসিলায় নবাগতদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, পবিত্র জুমার দিনে আমাদের তাওবা করার সুযোগ দিয়ে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের প্রতি যে দয়া ও মেহেরবানি করেছেন তার জন্য আমরা আল্লাহর দরবারে শোকরিয়া আদায় করছি। সিলসিলায় প্রবেশে যে প্রতিজ্ঞা করেছি তা যপন জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত বজায় থাকে সেইদিকে যত্নবান হবার আহবান জানান। হুজুর কেবলা যুবক ও তরুণ প্রজন্মকে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমান ঝঞ্ছাবিক্ষুব্ধ বিশ্বে বিজাতীয় অপসংস্কৃতি, মাদক ও সোস্যাল মিডিয়ার নেশায় মত্ত হয়ে পড়েছে। উগ্রতা ও সন্ত্রাস তরুণদের বিপথে পরিচালিত করছে। এদের রক্ষা করতে হলে আউলিয়া বুজুর্গদের সান্নিধ্যে আনতে হবে। আধ্যাত্মিকতার আলোয় তারা সঠিক পথ খুঁজে পাবে।
জুমা পরবর্তী মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন আওলাদে রাসূল, সাহেবজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ্ (মাজিআ)। বিশেষ অতিথি ছিলেন আওলাদে রাসূল, সাহেবজাদা সৈয়্যদ আকিব আহমদ শাহ্ (মাজিআ)। অতিথি ছিলেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি চট্টগ্রামে আওলাদে রাসূল আল্লামা সৈয়দ মুহম্মদ সাবির শাহ, শাহজাদা আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও সৈয়দ আকিব আহমদ শাহ হুজুরকে মোবারকবাদ জানিয়ে সিটি কর্পোরেশনের সার্বিক সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন। তিনি চট্টগ্রাম সিটির উন্নয়নে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন আনজুমান–এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মনজুর আলম (মনজু), সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অ্যাডিশনাল জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ সামশুদ্দীন, জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি এস এম গিয়াস উদ্দীন (শাকের), অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি ও পিপিএস মাহমুদ নেওয়াজ, ফাইন্যান্স সেক্রেটারি মোহাম্মদ কমর উদ্দীন (সবুর), ক্যাবিনেট মেম্বার পেয়ার মোহাম্মদ, মোহাম্মদ হোসাইন খোকন, দৈনিক আজাদীর পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক, আনজুমান সদস্য শাহাজাদ ইবনে দিদার, আনোয়ারুল হক, তৈয়বুর রহমান, আবদুল হামিদ, মোহাম্মদ আলী, নুরুল আমিন, নূর মোহাম্মদ কন্ট্রাক্টর, প্রফেসর জসিম উদ্দীন, আবদুল হাই মাসুম, সাদেক হোসেন পাপ্পু, মাহবুবুল আলম, মাহবুব ছফা, ড. সাইফুল আলম, ফরিদুল আলম, তৌহিদুল করিম, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, মোহাম্মদ ইলিয়াছ, হাফেজ মারুফুর রহমান, অ্যাড. মোছাহেব উদ্দীন বখতিয়ার, মাহবুবুল হক খান, মনোয়ার হোসেন মুন্না, জহুরুল আলম, আনজুমান এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের সচিব প্রফেসর আবু ছালেহ মো. নঈম উদ্দীন, মাসিক তরজুমানের নির্বাহী সম্পাদক অধ্যক্ষ আবু তালেব বেলাল প্রমুখ।
দায়েম নাজির জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া জামে মসজিদের খতিব আবুল আসাদ মুহাম্মদ জুবাইর রজভীর সঞ্চালনায় তাকরির পেশ করেন আল্লামা কাজী আবদুল ওয়াজেদ, ড. কামাল উদ্দীন আযহারী। সিলসিলাহ–এ আলিয়া কাদেরিয়ার বায়াত কার্যক্রম সম্পাদন, মিলাদ–ক্বিয়ামের পর আখেরি মোনাজাতে হুজুর ক্বিবলা (মাজিআ) বাংলাদেশসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে দো’আ করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।










