বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর বাঁশখালীতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ভেসে উঠছে। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ খাতে মোট ১১৩ কোটি ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে উপজেলার সংশ্লিষ্ট কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁশখালীর বাহারছড়া, ছনুয়া, সরল, কাথরিয়া, শেখেরখীল, চাম্বল, শীলকুপ, পৌরসভার জলদী, পুঁইছড়ি, বাহারছড়া, বৈলছড়ি, কালীপুর, সাধনপুর, পুকুরিয়া ও খানখানাবাদ এলাকার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর কার্পেটিং, ইট উঠে গেছে এবং মাটি ধুয়ে গেছে। অনেক জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কগুলো চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ জনগণ। বেশ কিছু স্থানে কাঁচা মাটির বাড়িঘর, ফসলী জমি, মাছের প্রজেক্ট, সবজি ক্ষেত অনেকটা বিলীন হয়ে গেছে। বেশ কয়দিন পানি বন্দী থাকায় অধিকাংশ মাটির ঘর ভেঙে পড়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রণয়নে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কোনো লোক যাতে বাদ না পড়ে, সে জন্য তালিকা প্রণয়নে সরকারি টেক অফিসার, জনপ্রতিনিধি, সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সহায়তা নেয়া হচ্ছে বলে জানান বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: রুহুল আমিন। তবে প্রশাসনের কাছে বর্তমানে বাড়িঘর ক্ষয়ক্ষতির যে তালিকা আছে সংরক্ষিত সম্পূর্ণ ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত মিলে প্রায় ১২ হাজার পরিবার। চট্টগ্রামের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসাবে বাঁশখালীর জনগণের পাশে সহানুভূতি জানাতে ছুটে আসেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা, উপনেতা, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, পাবর্ত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।
বাঁশখালীর একমাত্র প্রধান (পিএবি) সড়কে বেশ কিছু স্থানের দু’পাশ ভেঙে পড়েছে। তবে সওজের উপ–সহকারী প্রকৌশলী মো: দিদারুল ইসলাম জানান, ৬ কিলোমিটার সড়ক নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। প্রধান সড়কে গর্তসহ নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াতে ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করছে।
বাঁশখালী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে চলমান প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাঁশখালী উপজেলার সড়ক ও যোগাযোগ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের সংখ্যা ৫৮টি, (দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৮ কিলোমিটার), ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ ও কালভার্টের সংখ্যা ৬০, রাস্তার সারফেসহ মোট ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ১০৯ কিলোমিটার বলে জানান বাঁশখালী উপজেলা প্রকৌশলী ইফরাদ বিন মুনির।
বাঁশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র সরকার বলেন, কৃষি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৪৪৬.৫ হেক্টর, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ২৬ হাজার ৮শ জন। সবজি ভান্ডার খ্যাত বাঁশখালীতে কৃষি খাতে ক্ষতি প্রায় ৫২ কোটি ৭ লক্ষ টাকা প্রায়। বাঁশখালী সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. তৌসিব উদ্দিন জানান, মৎস্য খাতে ৪,২০০টি পুকুর ও ৩১০টি চিংড়ি ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার আর্থিক মূল্য ৫১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা জানান, প্রাণিসম্পদ খাতে ১,২৪০টি গবাদিপশুর খামার ও ৭৪০টি পোল্ট্রি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: রুহুল আমিন জানান, বন্যায় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিদের রাজনৈতিক ও সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতায় পরিস্থিতি সামাল দেয়া হচ্ছে। বন্যাকবলিত মানুষের জন্য খাবারও সরবরাহ করা হয়েছে। তার মধ্যে ১৭৫ মে.টন চাল, ১০ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ৭ হাজার প্যাকেট রান্না করা খাবার, ১ লক্ষ ৩০ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ১০০টি হাইজিন বক্স, ১৫৬টি জেরিকেন পানিসহ পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার স্যালাইন বিতরণ করা হয়। বর্তমানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা মোতাবেক ক্ষতিগ্রস্তদের স্থায়ীভাবে পুনবার্সনের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান।












