চট্টগ্রাম জেলার সব সরকারি দপ্তর ও সরকারি আবাসিক ভবনের ছাদে একযোগে বিশেষ পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। আগামী ২৫ জুলাই এ কর্মসূচি পালনের জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। চট্টগ্রামকে আরো পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নেওয়া এ কর্মসূচিতে ভালো পারফরম্যান্স দেখানো দপ্তরকে পুরস্কৃত করা এবং অবহেলা বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে সরকারি বাসা বরাদ্দ বাতিলসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। গতকাল সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিনের সঞ্চালনায় সভায় জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান এবং সব উপজেলার ইউএনওরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় চট্টগ্রাম জেলার সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন দপ্তরের কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। জেলা প্রশাসক জেলার সকল চলমান উন্নয়ন প্রকল্প যথাসময়ে ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়া দ্রুততর করা এবং গোখাদ্য বিতরণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক বলেন, আগামী ২৫ জুলাই ছাদ পরিষ্কার কর্মসূচি উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করতে চাই। জেলা, উপজেলা এবং অধীনস্থ সব দপ্তরে এটি বাস্তবায়ন করতে হবে। সারা দেশে যেন বোঝা যায়, চট্টগ্রাম পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতার একটি উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, নিজের অফিস, নিজের বাসা থেকেই পরিচ্ছন্নতা শুরু করুন। নগরটিকে বাসযোগ্য করার দায়িত্বও আমাদের সবার।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিটি দপ্তরকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আগে ও পরে ছবি এবং ভিডিও জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, এসব মূল্যায়ন করে আগামী জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় সেরা উদ্যোগগুলোকে পুরস্কৃত করা হবে। সরকারি আবাসনের ছাদবাগান নিয়ে আসা অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, ছাদবাগান অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। কিন্তু পরিচর্যার অভাবে যদি নিচতলার বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত হন বা পানি চুঁইয়ে পড়ে জনভোগান্তি সৃষ্টি হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, পরিষ্কার বার্তা দিন। নির্দেশনা না মানলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সরকারি বাসা বরাদ্দও বাতিল করা হবে।












