শিশু আয়নী খুনের মামলার রায় আজ

আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ২০ জুলাই, ২০২৬ at ৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ

নগরীর পাহাড়তলীতে বিড়ালছানা দেবে বলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ৯ বছরের শিশু আয়নী খুনের মামলার রায় ঘোষিত হবে আজ সোমবার। ১৪ জুলাই চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল২ এর বিচারক যুক্তিতর্ক কার্যক্রম শেষ করে রায়ের এই দিন ধার্য করেন। এর আগে ৮ জুলাই মামলার একমাত্র আসামি সবজি বিক্রেতা রুবেলকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় পরীক্ষা (আত্মপক্ষ সমর্থন) করা হয়। তারও আগে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শেষ করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের পিপি মাহমুদউল আলম চৌধুরী মারুফ আজাদীকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ২০২৩ সালের ২১ মার্চ নিখোঁজ হয় শিশু আয়নী। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে তার মা পাহাড়তলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডির তদন্তে আয়নী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সবজি বিক্রেতা মো. রুবেলের সম্পৃক্ততা উঠে আসে। তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজের ৯ দিন পর নগরীর পাহাড়তলী থানার মুরগি ফার্ম এলাকার একটি ডোবা থেকে আয়নীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেই সাথে আয়নীর একটি গেঞ্জি, এক জোড়া স্যান্ডেল, একটি কালো পায়জামা ও একটি গাঢ় নেভি ব্লু রঙের হিজাবও উদ্ধার করা হয়।

মুরগির ফার্মের পাশের কাজির দিঘি এলাকায় মায়ের সাথে বসবাস করত ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী আয়নী। অভিযুক্ত রুবেলও একই এলাকায় বসবাস করে ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করতেন। গ্রেপ্তারের পর রুবেল ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

আদালত সূত্র জানায়, আয়নীর লাশ উদ্ধারের পর তার মা চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালএ একটি নালিশি মামলার আবেদন করেন। আদালত তখন অভিযোগটিকে এফআইআর হিসেবে ট্রিট করার জন্য পাহাড়তলী থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়। তদন্ত শেষে পুলিশ রুবেলের বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণ, খুন ও লাশ গুমের অভিযোগে চার্জশিট দাখিল করে। পরে আদালত এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়। রুবেল চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন।

আদালত সূত্র আরো জানায়, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে রুবেলের কাছে আয়নী একটি বিড়ালছানার আবদার করেছিল। রুবেল তাকে সে বিষয়ে আশ্বস্ত করেন। একপর্যায়ে ঘটনার দিন রুবেল তার ফুফুর খালি বাসায় ডেকে নিয়ে গিয়ে আয়নীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এতে ব্যর্থ হয়ে তিনি শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে গুমের উদ্দেশ্যে বস্তায় ভরে লাশ ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। পলিথিন মুড়িয়ে নিজের তরকারির ভ্যানে করে লাশ ডোবা পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকুমিরায় উল্টে গেল যাত্রীবাহী বাস একজনের মৃত্যু, আহত ১৫
পরবর্তী নিবন্ধধানের চারা রোপণের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই কৃষকের মৃত্যু