সরকারের আগাম পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে সামপ্রতিক বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম হয়েছে। রোববার দুপুরে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে বন্যা পরবর্তী ত্রাণ সহায়তা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
এসময় প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বন্যাদুর্গত মানুষের কথা চিন্তা করে আজ থেকে সরকারের বিশেষ খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি চালু হয়েছে। এতে স্বল্প মূল্যে হতদরিদ্র মানুষ খাদ্য সহায়তা পাবে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জুলাই মাসে ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি সুদসহ মওফুকের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
পার্বত্য মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রেইনবো জাতি গঠনে যে স্বপ্ন দেখছেন তাতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। পার্বত্য এলাকার উন্নয়নে সরকারের বিশেষ মনোযোগ রয়েছে। অবিলম্বে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ পুর্নগঠন করা হবে। এসময় তিনি জেলার মহালছড়ির চোংড়াছড়ি, পাকুজ্জাছড়ি, মাইসছড়িতে বন্যা দুর্গত মানুষের মাঝে জায়গায় ত্রাণ বিতরণ করেন। একই দিন বিকেল তিনটায় পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী সার্কিট হাউসে বিশিষ্টজনদের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিক বলেন, আমরা ৩১ দফা নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় গিয়েছি, প্রতিটি বিভাগে গিয়েছি। ওখানে সুস্পষ্টভাবে আমরা বলেছি, আমরা একটি রংধনু জাতি গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বা প্রত্যয়ী। তো আমরা ইলেকশনের পরে কিন্তু তাই করেছি। আমরা সবাইকে নিয়ে কাজ করছি এবং এখানে কোনো ধর্ম, বর্ণ, গোত্রের কোনো বিভেদ নেই। যেজন্য এখন আমাদের স্লোগান ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’, তার সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যুক্ত করেছেন ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’। যখন আমরা বলি ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’, এখানে কোনো বৈষম্য থাকে না। যখন বৈষম্য থাকে না, এই ধরনের কোনো হিংসা–প্রতিহিংসা বা ক্ষোভ–বিক্ষোভের জায়গাটা থাকে না। এখন যারা এই যে ধরেন, আমি আপনাকে একটা উদাহরণ দিই। কয়দিন আগে ছাত্রদের একটা আন্দোলনের মতো চেষ্টা করলো। এরপরে আপনাদের নিউজে আমি দেখলাম, সায়েন্সের স্টুডেন্ট বলতেছে অথচ লেখাপড়াই করে নাই। তার মানে একটা অংশ সবসময় থাকে যে দেশটা অস্থিতিশীল করতে চায়। অস্থিতিশীল যে করতে চাইলে তাকে আইনের আওতায় আমরা এনে ওই ব্যবস্থা করবো। কিন্তু আমার মনে হয় বাংলাদেশিরা এখন অনেক সচেতন। তারা চায় বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাক। এবং আমাদের তিন পার্বত্য জেলার অত্যন্ত জনপ্রিয় তিনজন এমপি আছেন, যারা আমাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করছেন। উনাদের পরামর্শ অনুযায়ী এখানে যা যা করণীয় আমরা করবো।
তবে আপনাদের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে চাই, এই তিন পার্বত্য জেলায় সকল ধর্ম, বর্ণ, গোত্রের মানুষকে সমউন্নয়নের আওতায় এনে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটানোই এই সরকারের মুখ্য উদ্দেশ্য। এটা জনগণের নির্বাচিত সরকার। যে সরকারের প্রধানমন্ত্রী ট্রাফিক
সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকেন, ময়লা টিস্যুটা নিজের পকেটে রাখেন, শিখাচ্ছেন। এই পরিবর্তন বাংলাদেশের প্রতিটি সেক্টরে লেগেছে। আমাদের থেকে শুরু করে প্রশাসন পর্যন্ত এটার রিফ্লেকশন হচ্ছে।
মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া, সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক, জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস মেহেদী, নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহ আল মাহফুজসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরের প্রধানরা।












