কালভার্টের মুখ বন্ধ করে স্থাপনা নির্মাণ, জলাবদ্ধতার আশংকা

লোহাগাড়ার বার আউলিয়া কলেজ সড়ক

লোহাগাড়া প্রতিনিধি | সোমবার , ২০ জুলাই, ২০২৬ at ৭:১১ পূর্বাহ্ণ

লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের বার আউলিয়া কলেজ সড়কে একটি কালভার্টের মুখ সিংহভাগ বন্ধ করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক জলাবদ্ধতা, কৃষিজমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হওয়া এবং স্থানীয় জনসাধারণের দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির সময় এই কালভার্ট দিয়েই পানির স্রোত প্রবাহিত হয়। কিন্তু বর্তমানে কালভার্টের অধিকাংশ মুখ ঢালাই দিয়ে বন্ধ করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এতে পানি চলাচলের পথ উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়ে গেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা ভারী বৃষ্টিপাত হলে পানি উজানে ফিরে গিয়ে কয়েকটি গ্রামের বসতবাড়ি, দোকানপাট, বার আউলিয়া কলেজসহ আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। ইতোমধ্যে সামান্য বৃষ্টিতে ওই এলাকায় পানি জমতে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ফজলুল হক নামে এক ব্যক্তি ওই স্থানে স্থাপনা নির্মাণের কাজ করছেন বলে জানা গেছে।

গত শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, বার আউলিয়া কলেজের পশ্চিম পাশে সড়কের উপর অবস্থিত কালভার্টটির সিংহভাগ মুখ কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পানি চলাচলের জন্য অল্প একটি অংশ খোলা রাখা হলেও স্থানীয়দের দাবি, তা বর্ষা মৌসুমের পানির চাপ সামাল দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। সেখানে নির্মাণসামগ্রী মজুদ রাখা হয়েছে এবং শ্রমিকদের কাজ করতেও দেখা গেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, সরকারি অবকাঠামো ও পানি প্রবাহের স্বাভাবিক পথ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিয়মিত তদারকি থাকলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না। সময়মতো ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে সরকারি অর্থ ব্যয় করে আবারও পানি নিষ্কাশনের পথ পুনরুদ্ধার করতে হতে পারে। স্থানীয় কৃষকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পানি চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত হলে দীর্ঘসময় জমিতে পানি আটকে থাকবে। এতে আমন ধানের বীজতলা, সবজি, পান, আদা, হলুদসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সম্প্রতি বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা নতুন করে এমন ঝুঁকি নিতে চান না।

অভিযুক্ত ফজলুল হক জানান, কালভার্টের মুখ পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। পানি চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রেখেই নির্মাণকাজ করা হচ্ছে। এখানে জলাবদ্ধতার কোনো আশঙ্কা নেই।

আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে অভিযোগ পেয়েছি। সরেজমিন পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বার আউলিয়া কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক শফিকুর রহমান বলেন, শুরু থেকেই আমরা একাধিকবার বাধা দিয়েছি। কিন্তু মালিকপক্ষ নিষেধ উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে গেছেন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকেও একাধিকবার মৌখিকভাবে জানিয়েছি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। কালভার্ট দিয়ে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হলে বৃষ্টি হলে কলেজ প্রাঙ্গণসহ আশপাশে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ বিন আখন্দ জানান, পানি চলাচলের পথে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। এ ব্যাপারে সরেজমিন তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত : মির্জা ফখরুল
পরবর্তী নিবন্ধখাগড়াছড়িতে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল