জিম্বাবুয়ে সফরে তিন ম্যাচ টি–টোয়েন্টি সিরিজের শেষটিতে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত জিততে পারল ৪ উইকেটে। পিছিয়ে পড়েও তারা ২–১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিল। একমাত্র টেস্টে পরাজয়ের পর ওয়ানডে সিরিজও হাতছাড়া করে টাইগাররা। বাকি ছিল টি–টোয়েন্টি সিরিজ। তাতেও প্রথমটিতে হার মানে তারা। শেষ পর্যন্ত পরপর দুটি ম্যাচ জিতে সিরিজ জয় করে শেষটা রাঙালো টাইগাররা।
জিম্বাবুয়ের ৭ উইকেটে ১৪৩ রানের জবাবে বাংলাদেশ ২ বল বাকি থাকতে তুলে নেয় ৬ উইকেটে ১৪৪ রান। আগের সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হোয়াইটওয়াশড হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়ের নেতৃত্বে প্রথম সিরিজ জয় এটি।
বুলাওয়েতে গতকালের ম্যাচে বাংলাদেশ ছিল সহজ জয়ের পথে। পাঁচ বলে প্রয়োজন চার রান। কিন্তু ব্র্যাড ইভান্সের ফুল টসে বোল্ড হয়ে যান মোসাদ্দেক হোসেন। নতুন ব্যাটার মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন ছক্কায় ম্যাচ শেষ করতে চাইলেন। কিন্তু প্রথম বলেই উড়িয়ে মেরে আউট হলেন। এরপর হ্যাটট্রিক ডেলিভারিতে ফুল টস বল সোজা গিয়ে লাগে শেখ মেহেদি হাসানের প্যাডে। নিশ্চিত এলবিডব্লিউ। কিন্তু বেঁচে গেলেন। আম্পায়ার সঙ্কেত দিলেন ডেড বলের। কারণ কোনো এক ফিল্ডার মুভ করছিলেন। বেঁচে গেল বাংলাদেশও। পরের বলটিও ফুল টস পেয়ে এক্সট্রা কাভার দিয়ে চার মেরে দিলেন মেহেদি। পরে বোলার ইভান্সের সঙ্গে এক চোট উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়ে যায় তার। অনায়াস জয়ের পথে ছিল যে ম্যাচ শেষ সময়ে সেটিতে নাভিশ্বাস উঠে গেল যেন বাংলাদেশের। বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়া হয়ে যায় ম্যাচের প্রথম ভাগে। এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল, ১৬০–১৭০ রান করবে জিম্বাবুয়ে। কিন্তু শেষ দিকে দুর্দান্ত বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে তাদেরকে ১৪৩ রানেই আটকে রাখে বাংলাদেশ। ওপেনিংয়ে ব্রায়ান ব্রেনেট করেন ৪৭, তিনে নেমে ডিওন মায়ার্স ৭৩। দলের বাকি সাত ব্যাটসম্যান আর অতিরিক্তি মিলিয়ে রান আসে ২৩। রান তাড়ায় বাংলাদেশ ঝড়ের গতিতে ছুটতে পারেনি। তবে শেষ ওভারের আগ পর্যন্ত পুরোটই ছিল নিয়ন্ত্রণে। এক প্রান্ত আগলে রেখে দলকে জয়ের দিকে নিয়ে যান তানজিদ হাসান। শেষে ওই নাটক জমিয়ে জয় আসে দুই বল বাকি রেখে। চার ছক্কায় ৫৮ বলে ৬৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা হন তানজিদ। টানা দুটি ফিফটি করে সিরিজের সেরাও এই ওপেনার। বাংলাদেশের ম্যাচ শুরুর ইঙ্গিত ছিল অশুভ। ম্যাচের প্রথম ওভারে তাসকিন আহমেদের বলে বেনেটের সহজ ক্যাচ ছাড়েন তানজিদ হাসান। পরের ওভারেই টাডিওয়ানাশে মারুমানিকে ফিরিয়ে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন শেখ মেহেদি হাসান। মেহেদি পরের ওভারে বেনেটের তিন বাউন্ডারিসহ ১৫ রান এলেও পাওয়ার প্লেতে জিম্বাবুয়ে তোলে ৪০ রান। পরের উইকেটের জন্য অবশ্য অনেকটা সময় অপেক্ষা করতে হয় বাংলাদেশকে। জুটি গড়ে তোলেন বেনেট ও মায়ার্স। ৫৫ বলে ৯১ রানের জুটি ভাঙেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। বেনেট ৪৭ রান করেন। ১২ ওভার শেষ মায়ার্সের রান ছিল ২৬ বলে ২৬। এরপর কিছু শট তিনি খেলেন। তবে আরেকপ্রান্তে ব্যাটসম্যানদের আসা–যাওয়া চলতে থাকে। সিকান্দার রাজা ফেরেন ৩ রানে। আব্দুল গাফফার সাকলাইনের বল আকাশে তুলে বিদায় নেন রায়ান বার্ল। আগের ম্যাচগুলোয় বাংলাদেশকে ভোগানো ব্র্যাড ইভান্স রান আউট হন ১ রানে। ওই ওভারেই কিপারের কাছে ধরা পড়েন ক্লাইভ মাডান্ডে। ৫৩ বলে ৭৩ করে শেষ ওভারে রান আউট হন মায়ার্স। শেষ ৫ ওভারে মাত্র ৩৪ রান তুলতে পারে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের রান তাড়ার সুবিধা করতে পারেননি ওপেনার সাইফ হাসান। ইনিংসের প্রথম বলেই তেড়েফুঁড়ে মেরে ব্যাটে–বলে করতে পারেননি। পরের বলে লেগ স্টাম্পের বাইরে শর্ট বল পেয়ে মারেন বাউন্ডারি। ওভারের চতুর্থ বলে স্কুপ করার চেষ্টায় বল লাগে তার হেলমেটে। মাঠে তাকে পরীক্ষা করে দেখেন ফিজিও। চার রান করে পরের বলেই বাজে শটে বিলিয়ে দেন উইকেট। ওই উইকেটের পর বাংলাদেশের দুই ব্যাটারকে চেপে ধরেন জিম্বাবুয়ের পেসাররা। তানজিদ ও পারভেজ একটি করে ছক্কা মারলেও পাওয়ার প্লেতে রান ওঠে মাত্র ৩০। পাওয়ার প্লের পর একটু হাত খোলেন দুজন। সিকান্দার রাজাকে মাথার ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন পারভেজ। টিনোটেন্ডা মাপোসাকে ছক্কায় স্বাগত জানান তানজিদ। ওই ওভারেই দুটি চার আসে তার সঙ্গীর ব্যাট থেকে। ৫৫ রানের জুটি থামে রাজার বলে পারভেজের বিদায়ে। ২২ বলে ২৫ রান করে তিনি। বাংলাদেশকে তাতে বিপাকে পড়তে হয়নি। বরং পরের জুটিতে আরও গতিময় হয় ইনিংস। তানজিদ ও হৃদয় যোগ করেন ৪৪ বলে ৬৩ রান। দুজন ভালো কিছু শট খেলেন, আবার আলগা ফিল্ডিং করে জিম্বাবুয়ে। হৃদয় ফেরেন ১৯ বলে ২৪ রান করে। জয়ের কাছে গিয়ে আউট হয়ে যান আগের দুই ম্যাচে দারুণ খেলা ইয়াসির আলি (১০)। মোসাদ্দেক হোসেনের সামনে সুযোগ ছিল দলের জয় নিয়ে ফেরার। কিন্তু সেই সুযোগ হেলায় হারান তিনি। শেষ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ছয় রানের। প্রথম বলে সিঙ্গল নেন তানজিদ। পরের বলে লো ফুল টসে জায়গা বানিয়ে খেলার চেষ্টায় লাইন মিস করে বোল্ড মোসাদ্দেক (১)। নতুন ব্যাটার সাইফ উদ্দিন আগেই শাফল করে বড় শট খেলার পজিশনে চলে যান। বোলার সেটা বুঝেই বল করেন। সাইফ তবু ব্যাট চালিয়ে দেন। ধরা পড়েন মিড উইকেটে (০)। পরের বলে ইভান্সের হ্যাটট্রিক হয়েই যেত। তবে তিনি বল ডেলিভারি করার সামান্য আগেই ডেড বলের সঙ্কেত দিতে শুরু করেন আম্পায়ার। সেটি নিয়ে বেশ সংশয়ের তৈরি হয়। জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটাররা প্রতিবাদ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তাদেরকে বোঝাতে পারেন আম্পায়ার। পরের বলটি আবার ফুল টস করেন ইভান্স। এবার টাইমিং ঠিকঠাক করতে পারেন মেহেদি (অপ.৪)।












