আসামিদের পক্ষে আদালতে না দাঁড়ানোর ঘোষণা আইনজীবীদের

রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যা । গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থের ভাই ও বাবাকে ডিবি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ

| রবিবার , ৩০ আগস্ট, ২০২৬ at ৫:৪২ পূর্বাহ্ণ

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার মামলায় আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই না করার ঘোষণা দিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় আইনজীবী সমিতি ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিন। তিনি বলেন, আইনজীবী সমিতির সদস্যদের আলোচনা সাপেক্ষে একই পরিবারের চার সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষে রয়েছি এবং তাদের সবধরনের আইনি লড়াইয়ে আমরা তাদের পাশে আছি। খবর বিডিনিউজের।

আফতাব উদ্দিন বলেন, রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনাটি নিকৃষ্টতম ঘটনা। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ইতোমধ্যে আমরা কয়েকজন সরকারি আইনজীবী রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তিনি বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে এবং তাদের দেওয়া তথ্য মতে লুণ্ঠিত গহনা উদ্ধার হয়েছে। আটকরা ১৬৪ ধারায় আদালতে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশি তৎপরতা, সাংবাদিকগণের সহযোগিতায় এখন পর্যন্ত পুলিশের তদন্ত এবং কার্যক্রম সঠিক পথেই আছে বলে আমরা মনে করছি। এ আইনজীবী বলেন, এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা রকমের গুজব ও গল্প সাজিয়ে প্রচার করছেন। কেউ কেউ এটাকে নিয়ে রাজনৈতিক প্রচার চালানোর চেষ্টা করছেন। আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে অনুরোধ এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে কেউ রাজনীতি করবেন না। কোনো প্রকার গুজব ছড়াবেন না। তিনি এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে সাংবাদিকদের আহবান জানান।

এদিকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের বাবা ও ভাইকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরে অবশ্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। নগরীর সেন্ট্রাল রোডের ডিবি কার্যালয়ে যাওয়ার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাস ও বড় ভাই পার্থ দাস সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।

পরে রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, বিকালে সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস এবং ভাই পার্থ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল। যেহেতু পুলিশ তাদের এনেছিল ফলে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঅভাব থেকে হতাশা, তারপর আত্মহত্যা
পরবর্তী নিবন্ধআত্মগোপনে থাকা চাঁদপুরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার