আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস আজ

| রবিবার , ৩০ আগস্ট, ২০২৬ at ৫:৩৬ পূর্বাহ্ণ

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস আজ। দিবসটি উপলক্ষে গুম হওয়া ব্যক্তির স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’সহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে। জোরপূর্বক গুম একটি বৈশ্বিক সমস্যা। বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক সময় ভিন্নমতের রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কৌশল ব্যবহার করে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পরিবার তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে পারে না এবং বিচার পাওয়ার অধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়। খবর বাসসের।

জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী গুমের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, স্মরণ এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাতে ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়ে আসছে। দিবসটির ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম বন্ধের পাশাপাশি এই অপরাধের জন্য দায়মুক্তি বন্ধ করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তার লক্ষ্যে ২০০৬ সালের ২০ ডিসেম্বর গুম হওয়া সব ব্যক্তির জন্য আন্তর্জাতিক সনদ হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। পরে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর প্রটেকশন অব অল পারসন্স অ্যাগেইনস্ট এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়্যারেন্স’ সম্মেলনে যে আন্তর্জাতিক সনদ কার্যকর হয়, সেই সনদে ৩০ আগস্টকে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

দিবসটির মূল উদ্দেশ্য ছিল গুম নামক মানবতাবিরোধী অপরাধকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা এবং রাষ্ট্রগুলোর ওপর জবাবদিহিতার চাপ সৃষ্টি করা। ২০১১ সাল থেকেই বাংলাদেশে দিনটি পালিত হতে থাকে।

বাংলাদেশে গুমের ইতিহাস পুরনো নয়, কিন্তু আলোচিত। গুম করে আয়নাঘরে আটক রাখা আওয়ামী লীগ আমলের ভয়াবহতার চিত্র গুম কমিশন ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পর এই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়। গুমের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন দাখিল করা হয়েছে। গুমের শিকার ও ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ দাখিল করেছেন। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট সই করেছে বাংলাদেশ।

গুমকে স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিনঅযোগ্য ও আপসঅযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যাক্তির শাস্তি নিশ্চিত করা, ভুক্তভোগী ও তাদের অধিকার সংরক্ষণ ও প্রতিকার প্রদান এবং মানবাধিকার, ব্যক্তি স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল২০২৬’ ২৭ আগস্ট সংসদে উত্থাপিত হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক নয়টি সনদের আটটিতে সই করেছে। জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের অনুরোধের পরও বিগত সরকার গুমবিরোধী সনদে সই করেনি। গুম প্রতিরোধ সনদে ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট সই করেছে বাংলাদেশ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধলালদিয়া কন্টেনার টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন আজ