রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের প্রধান সড়ক ‘কোর্টকাম আমানউল্লাহ সড়ক’ এখন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। ঠিকাদারের খামখেয়ালিপনা ও অবহেলায় সড়কটির উন্নয়ন কাজ দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। এর মধ্যে বেতাগী খালের ওপর একটি সেতুর গাইডওয়াল মূল সেতু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। খালের ভাঙনে সড়কের বড় একটি অংশও ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫০ বছর পর গত চার বছর ধরে ধাপে ধাপে সড়কটির উন্নয়ন কাজ চলছে। তবে কাজের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে দুর্ভোগ কমছে না। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সিএনজি টেক্সি, ব্যাটারি রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। বেতাগী ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে অন্তত ছয়টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা নিয়মিত এই সড়ক ব্যবহার করেন।
বর্তমানে খালের ভাঙনে সড়কের একটি বড় অংশ দেবে গেছে। ওই অংশ খালের দিকে ঝুঁকেও পড়েছে। এতে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘ ৫০ বছর অপেক্ষার পর চার বছর আগে সড়কটির উন্নয়নকাজ শুরু হয়। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে কাজ শেষ হওয়ার আগেই বেতাগী খালের ভাঙনে সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চ–মিলসংলগ্ন বেতাগী খালের ওপরের সেতুটির পশ্চিম পাশের গাইডওয়াল মূল সেতু থেকে প্রায় তিন ফুট সরে গেছে। এতে সড়কের নিচের মাটি ধসে পড়েছে। একই ওয়ার্ডের সিকদারপাড়া অংশে এখনো আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়নি। অন্যদিকে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীর মসজিদসংলগ্ন সেতুর কাজ এখনো শুরু করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এছাড়া কাউখালী ছড়ারকুল অংশে অল্প কিছু রাস্তার কার্পেটিংয়ের কাজ বাকি রেখে প্রায় দুই বছর ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। অথচ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন আনোয়ারা বেগম উচ্চবিদ্যালয়, আবুল বশর চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয় ও রোটারী বেতাগী উচ্চবিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী ও পথচারী চলাচল করেন।
সড়কটির বেহাল দশা নিয়ে বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিউল আলম বলেন, চলমান উন্নয়নকাজ শেষ হওয়ার আগেই বেতাগী খালসংলগ্ন প্রধান সড়কটি খালের মধ্যে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ঠিকাদারের জবাবদিহি নিশ্চিত করে কাজ করানোর দায়িত্ব উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি)। দ্রুত গাইডওয়াল নির্মাণ করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা চৌধুরী সৌরভ বড়ুয়া ঝুঁকিপূর্ণ সড়কের পাশে ফেলে রাখা কাঠের গুঁড়ি সরিয়ে নেওয়া এবং ভারী যানবাহন চলাচলে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি জানিয়েছেন। উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকায় দেওয়া হয়েছে। পুরো সড়কের সংস্কারকাজ শেষ করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।











