ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি দেশের বিভিন্নস্থানে কম–বেশি বৃষ্টি ঝরলেও, ভ্যাপসা গরমে মানুষ অতিষ্ঠ। গরমের সঙ্গে যোগ হয়েছে লোডশেডিং, এতে বাসাবাড়িতে থাকা মানুষেরও অস্বস্তি বেড়েছে। বৃষ্টি হলেও কেন এত গরম অনুভূত হচ্ছে? ভাদ্র মাসে ভ্যাপসা গরমের কারণই বা কী? আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ গতকাল শনিবার বিডিনিউজকে বলেন, মূলত ভাদ্রমাসের চিরাচরিত গরমের কারণেই এমন অনুভূত হচ্ছে। তিনি বলেন, এটা ন্যাচারালিই এরকম। মানে এই সময়টাতে ন্যাচারালিই এই গরমটা থাকে। একসময় বলা হতো ভাদ্রের তালপাকা গরম। এটা সেই গরমটা। তবে গরম বেশি অনুভূত হওয়ার বৈজ্ঞানিক কারণ ব্যাখ্যা করে তরিফুল নেওয়াজ বলেন, মূল কারণ বাতাসের মধ্যে আর্দ্রতার পরিমাণটা বেশি। কারণ বর্ষাকালের ফলে যে খাল–বিলে প্রচুর পানি থাকে, রোদের কারণে সেটা থেকে জলীয় বাষ্প তৈরি হয়।
এই আবহাওয়াবিদ বলেন, তা ছাড়া বাতাসটাও দক্ষিণ বা দক্ষিণ–পূর্ব বা দক্ষিণ–পশ্চিম থেকে আসে, সাগরের উপর থেকে। ফলে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে। আবার বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকলেও তার তাপ ধারণ ক্ষমতা বেশি, অর্থাৎ বাতাসটাও গরম থাকে। তো আমাদের চারপাশের বাতাসটাও গরম, সূর্যের আলোও বেশি, আবার বৃষ্টিপাত একটু কম থাকলেই এই ভ্যাপসা গরমটা অনুভূত হয়।
এদিকে আবহাওয়ার চরম বৈরি রূপ ‘এল নিনিও’ এবার শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী ‘এল নিনিও’ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পূর্বাভাস আগে থেকে দিয়ে আসছিলেন আবহাওয়াবিদরা।
গেল জুনে অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া ব্যুরো সতর্ক করে বলেছিল, প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যাঞ্চলে একটি ‘এল নিনিও’ আবহাওয়ার ধরন তৈরি হয়েছে এবং এটি তীব্র রূপ নিয়ে গত সাত দশকের মধ্যে অন্যতম সবচেয়ে শক্তিশালী হতে পারে।







