বারে কাচের আঘাতে যুবকের মৃত্যু, অভিযুক্তও মারা গেলেন পিটুনিতে

কক্সবাজারের রেনেসাঁ হোটেল

কক্সবাজার প্রতিনিধি | শনিবার , ২৯ আগস্ট, ২০২৬ at ৫:৩৪ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজার শহরের রেনেসাঁ হোটেলের মদের বারে সংঘর্ষের ঘটনায় নাজিবুল হক রাশেদ ও সোলাইমান ওরফে সালমান নামে দুই যুবক নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে নাজিবুল হক শহরের মধ্যম নুনিয়াছড়া এলাকার মৃত জয়নাল আবেদীন বহদ্দারের ছোট ছেলে। আর সোলাইমান শহরের বিজিবি ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় শহরের ঝাউতলা এলাকার রেনেসাঁ হোটেলে এ ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, নাজিবুল হক রাশেদকে ভাঙা কাচের গ্লাস দিয়ে গলায় আঘাত করা হয়। এরপর স্থানীয় জনতা ঘটনায় জড়িত সোলাইমান ওরফে সালমানকে ব্যাপক গণপিটুনি দেয়। তবে রাশেদকে হত্যার ঘটনায় জড়িত রাদি ও আনসার পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ ও জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সাবুগতাকিন মাহমুদ সোহেল দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বার কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, নিহত রাশেদসহ কয়েকজন যুবক বারে বসে মদ পান করছিলেন। ওই সময় হঠাৎ নিজেদের মধ্যে তর্কাতর্কি ও ঝগড়া শুরু করেন। পরে সংঘর্ষে জড়ানো যুবকরা বাইরে থেকে আরও কয়েকজন যুবককে ডেকে আনেন।

ঘটনাস্থলে থাকা একাধিক ব্যক্তি জানান, রাশেদের সঙ্গে প্রথমে আনসার নামের এক যুবকের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে আনসার রাদি ও সালমানকে ফোন করে ডেকে আনেন। তাদের মধ্যে রেনেসাঁ বারের ভেতরেই ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে মারামারির সময় এক যুবকের ভাঙা কাচের গ্লাসের আঘাতে রাশেদের গলা কেটে যায়। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে হোটেলের নিচে ও নুনিয়াছড়ায় দুই দফা গণপিটুনির শিকার হন সোলাইমান ওরফে সালমান। পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ তাকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রামে নেওয়ার পথে লোহাগাড়া এলাকায় পৌঁছালে সালমান মারা যান।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, অনুমোদনবিহীন মদের বারটি চালানো হচ্ছিল। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আটকে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

তবে রেনেসাঁ হোটেলের ব্যবস্থাপক ফয়েজুল হক জানান, তাদের বারের বৈধ লাইসেন্স রয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত সেটি নবায়ন করা আছে। তিনি বলেন, বারে সংঘর্ষে জড়ানো যুবকদের মধ্যে কয়েকজনের ব্যক্তিগত মদের লাইসেন্স ছিল। কয়েকজনের ছিল না। ঢাকা থেকে অতিথি এসেছেন বলে অনেকেই বারে ঢুকে পড়েছিলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুল ইসলাম বলেন, নিহত দুজনই স্থানীয় বাসিন্দা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসিজিপিওয়াই থেকে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধের পথে
পরবর্তী নিবন্ধকক্সবাজারে তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ