চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চিটাগাং কন্টেনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে ঢাকায় মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বন্দর রক্ষা কমিটির এক সভা থেকে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদারের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, বন্দর সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সভা থেকে আগামী ৩১ আগস্ট বন্দর রক্ষা ও করিডোর বিরোধী আন্দোলন এবং বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রামের যৌথ উদ্যোগে ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি–সিসিটি ইজারা: বাংলাদেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ওপর হুমকি’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় নগরীর বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে বন্দর অভিমুখে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
গতকাল অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার। দেশের অর্থনীতি, আমদানি–রপ্তানি, কর্মসংস্থান এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে বন্দরের স্বার্থ সরাসরি যুক্ত। ফলে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার আগে এর অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও জাতীয় নিরাপত্তাজনিত প্রভাব নিয়ে সর্বস্তরে আলোচনা করা প্রয়োজন।
তারা বলেন, বন্দর পরিচালনা ও উন্নয়নের নামে এমন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত নয়, যার ফলে রাষ্ট্রের রাজস্ব আয় কমে যায়, বন্দরের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয় কিংবা ভবিষ্যতে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব প্রশ্নের মুখে পড়ে। এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরকারকে অবিলম্বে সরে আসার আহ্বান জানান তারা।
সভা থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার চলমান প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে বন্দরের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন নিয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং জনস্বার্থ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।








