পাঁচমুখী গাড়ির চলাচল নির্ঝঞ্জাট করতে নেয়া পতেঙ্গায় ইন্টারসেকশন এবং একটি ওভারপাসের নির্মাণকাজ ডিসেম্বরের আগেই শেষ হবে। ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ দ্রুত শেষ করতে পুরোদমে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সিডিএ’র ফৌজদারহাট–পতেঙ্গা রিং রোডের গাড়ি চলাচলে প্রত্যাশিত গতিশীলতা এবং পতেঙ্গা এলাকার গাড়ির চাপ সামলাতেই এই ইন্টারসেকশন ও ওভারপাস নির্মাণ করা হচ্ছে।
সূত্র জানিয়েছে, নগরীর যান চলাচলে গতিশীলতা আনার জন্য পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত ১৫ .২ কিলোমিটারের চার লেনের আউটার রিং রোড নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু সড়কটি নির্মাণের পরে এসে এর সাথে যুক্ত হয় নগরীর প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলীর তলদেশের টানেল এবং বে টার্মিনালের গাড়ি চলাচলের বিষয়টি। ইতোমধ্যে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হয়েছে, চালু হয়েছে টানেলও। এছাড়া সাগরপাড়ে বেড়াতে যাওয়া লোকজনের গাড়ির বিশাল একটি চাপও পতেঙ্গা এলাকায় রয়েছে। রয়েছে বিমানবন্দরগামী মানুষের চাপ। এতে করে এক্সপ্রেসওয়ে, টানেল এবং রিং রোডের গাড়ির একটি বিরাট জটলা পতেঙ্গা এলাকায় প্রতিদিনই যানজট সৃষ্টি করছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ধরে ১৫ থেকে ২০ মিনিটে লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা এলাকায় পৌঁছালেও ওখানে গিয়ে বিমানবন্দর কিংবা টানেলের মুখে পৌঁছাতে যানজট মোকাবেলা করতে হচ্ছে। রিং রোডের সাথে চট্টগ্রাম ইপিজেডকে যুক্ত করতেও নির্মাণ করা হচ্ছে ইপিজেড কানেকশন রোড। এই রোড চালু হলে পতেঙ্গায় যান চলাচলের চাপ আরো বাড়বে। একইসাথে বাড়বে যানজটও।
এই অবস্থার অবসান ঘটাতে পতেঙ্গা এলাকায় একটি ইন্টারসেকশন নির্মাণ করা হচ্ছে। যাতে পাঁচমুখী গাড়িকে স্ব স্ব পথে একই গতিতে চলাচলের পথ করে দেয়া হবে। এছাড়া ৯শ’ কিলোমিটার লম্বা দুই লাইনের একটি ওভারপাস নির্মাণ করা হচ্ছে বিমানবন্দরের যাত্রীদের জন্য। বিমানবন্দর থেকে যারা রিং রোড ধরে ঢাকামুখী যাত্রা করবে তাদেরকে উক্ত ওভারপাস দিয়ে চলাচলের সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে।
ইন্টারসেকশন ও ওভারপাসসহ পুরো অংশটির নির্মাণে ৪শ’ কোটিরও বেশি টাকা খরচ হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের এই অংশের ইন্টারসেকশনের কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, ইপিজেড কানেক্টিং রোডের কাজও শেষ পর্যায়ে। প্রকল্পটির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত ইতোমধ্যে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষর চিফ ইঞ্জিনিয়ার এবং ইন্টারসেকশন ও ওভারপাস নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল গতকাল দৈনিক আজাদীকে বলেন, প্রকল্পটির কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। ইন্টারসেকশন এবং ওভারপাস নির্মাণের কাজ শেষ হলে পতেঙ্গা এলাকার যান চলাচলে স্বাভাবিক গতিশীলতা নিশ্চিত হবে। তিনি বলেন, পাঁচমুখী গাড়ি ইন্টারসেকশন ব্যবহার করে স্ব স্ব পথে অনুমোদিত গতিতে চলাচল করতে পারবে। এতে এক গাড়ি অন্য কোনো গাড়িকে সাইড দেয়ার জন্য দাঁড়াতে হবে না। তিনি বলেন, ওভারপাসের কাজ নভেম্বরের মধ্যেই শেষ হবে। নিচে রাস্তার কিছু কাজ বাকি আছে। তাও ডিসেম্বরের আগে শেষ করে আমরা ওভারপাস এবং ইন্টারসেকশন চালু করে দেবো। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করে দেয়া হবে বলেও তিনি জানান।








