ডেঙ্গু কেড়ে নিল পরিশ্রমী যুবকের প্রাণ

জাহেদুল কবির | শুক্রবার , ২৮ আগস্ট, ২০২৬ at ৫:৩২ পূর্বাহ্ণ

ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য গত ২০০৮ সালে সন্দ্বীপের মুসাপুর থেকে চট্টগ্রাম নগরীতে এসেছিলেন মহিন উদ্দিন (৩৫)। প্রথমে চকবাজার এলাকার কেয়ারি ইলিশিয়াম শপিং মলে দোকান কর্মচারী হিসেবে চাকরি শুরু করেন। চাকরির সুবাদে রিয়া নামের এক মেয়ের সাথে পরিচয়। সেই পরিচয় থেকে গত ২০১৭ সালে রূপ নেয় প্রণয়ে। তারপর দুইজনের কঠোর পরিশ্রমে একে একে গড়ে তুলেন ছয়টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে কেয়ারিতে পাঁচটি এবং বালি আর্কেডে একটি। অপূর্ণ থাকা স্বপ্নের পিছনেই ছুটছিলেন। এরমধ্যেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত বুধবার রাতে নগরীর বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এর সাথেই থেমে পরিশ্রমী এক যুবকের স্বপ্নযাত্রা।

সন্দ্বীপের মুসাপুরের মুসা মিয়া মেম্বার বাড়ির মৃত আবদুল আউয়ালের দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সবার ছোট মহিন উদ্দিন। বাকি ভাইবোনেরা সন্দ্বীপে থাকেন। আর্থিকভাবে তারা তেমন সচ্ছলও নয়। অভাবের পরিবারে মহিনউদ্দিনের ছোঁয়ায় তারা দেখছিলেন আলোর রেখা। কিন্তু ডেঙ্গু জ্বর আক্রান্ত হয়ে সেই আলোর রেখা নিমিষেই অন্ধকারে মিলিয়ে গেলো। মহিনউদ্দিনের দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। সাড়ে ৬ বছর বয়সী বড় মেয়ে আরিয়া উদ্দিন ও পাঁচ বছর বয়সী আফরিন উদ্দিন কাপাসগোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণীতে পড়ে। ছোট ছেলে আয়ন উদ্দিনের বয়স মাত্র দুই।

মহিনউদ্দিনের ঘনিষ্ট বন্ধু কাতার প্রবাসী আশরাফ উল্লাহ দৈনিক আজাদীকে বলেন, মহিনউদ্দিনের সাথে আমি এক সময় দোকানে চাকরি করতাম। এরমধ্যে আমি প্রবাসে চলে যাই। সে এখানে চাকরির পর নিজে ব্যবসা বাণিজ্য শুরু করে। একে একে ছয়টি দোকান চালায়। এরমধ্যে একটির মালিক সে নিজে। অভাবের পরিবার ছিল। তার ও তার স্ত্রীর কঠোর পরিশ্রমের কারণে ধীরে ধীরে সফলতার মুখ দেখছিল। এমন সময় তিনদিনের জ্বরে সে পৃথিবী থেকেই বিদায় নিলো। দুটি মেয়ের পর তার ছেলে সন্তান হয়। তখন থেকে তার ছেলেকে নিয়ে নানা স্বপ্ন দেখছিল সে। এমন মৃত্যু আসলে মেনে নেয়া যায় না।

আশরাফ উল্লাহ আরো বলেন, কাতার থেকে আমি দেশে ছুটি কাটাতে আসার পর থেকে প্রায় সময় তার সাথেই কাটাতাম। তার বাসা ছিল চকবাজারের তেলিপট্টি মোড়ের একটু সামনে। গত সোমবার তার জ্বরের কথা শুনে তাকে দেখতে যাই। অবস্থা খারাপের দিকে যাওয়ায় তাকে মঙ্গলবার পার্কভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত বুধবার রাত ৯টার দিকে সে মারা যায়। আজ (গতকাল) সন্দ্বীপের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

মহিনউদ্দিনের শ্যালিকা তানিশা বলেন, আমার দুলাভাই এভাবে চলে যাবে আমরা কল্পনাও করতে পারছি না। মাত্র তিনদিনের জ্বরে তিনি পৃথিবী থেকে নাই হয়ে গেলেন। আমার ছোট ভাগ্নে ভাগ্নিরা এতিম হয়ে গেল। তাদের নিয়ে ওনার অনেক স্বপ্ন ছিল।

পূর্ববর্তী নিবন্ধডিসেম্বরের আগেই পতেঙ্গার ওভারপাস ও ইন্টারসেকশন চালু