জলিল টেক্সটাইলের ৫৪.৯৯ একর জমি পেলো সেনাবাহিনী

সশস্ত্র বাহিনী কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে : বাণিজ্য মন্ত্রী

আজাদী প্রতিবেদন | শুক্রবার , ২৮ আগস্ট, ২০২৬ at ৫:৩৪ পূর্বাহ্ণ

সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারিতে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস্‌ কর্পোরেশনের (বিটিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন জলিল টেক্সটাইল মিলস্‌ লিমিটেডের ৫৪.৯৯ একর জমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি (বিওএফ) সমপ্রসারণের উদ্দেশ্যে এ জমি হস্তান্তর করা হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জলিল টেক্সটাইল মিল মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কিউএমজি লেঃ জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস্‌ কর্পোরেশনের পক্ষে বিটিএমসি’র চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষে ইস্টার্ন সার্কেলের মিলিটারি এস্টেট অফিসার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। বিটিএমসি চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম জাহিদ হাসান বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকারউজজামান, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) . এ কে এম শামছুল ইসলাম, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বক্তব্য রাখেন। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকারউজজামান তাঁর বক্তব্যে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিরক্ষা সামগ্রীসহ দেশে উৎপাদিত সকল ধরনের পণ্য বহির্বিশ্বে সমাদৃত করতে চায়। তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ও সেনাবাহিনী প্রধানের নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা শিল্পসহ সশস্ত্র বাহিনী কাক্সিখত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রাষ্ট্রের একমাত্র অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি সমপ্রসারণের মাধ্যমে দেশে আধুনিক সমরাস্ত্র ও গোলাবারুদের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক নির্ভরতা কমিয়ে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও সুসংহত করার সুযোগ তৈরি হবে।

জলিল টেক্সটাইল মিলসের জমি হস্তান্তরের এই উদ্যোগ সমরাস্ত্র উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা খাতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে কমান্ড্যান্ট, বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি; ভারপ্রাপ্ত জিওসি, আর্টডক ও কমান্ড্যান্ট, বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি, কমান্ড্যান্ট, ইবিআরসি; জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, চট্টগ্রাম এরিয়া, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, সিডিএ চেয়ারম্যানসহ সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না : সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী