রেলওয়ের চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ড (সিজিপিওয়াই) থেকে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। আগে চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ড (সিজিপিওয়াই) থেকে প্রতিদিন কন্টেনারবাহী ৫ থেকে ৬টি ট্রেন ঢাকা কমলাপুর আইসিডি (ইনল্যান্ড কন্টেনার ডিপো) সহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যেত। কন্টেনারবাহী ট্রেন এবং বিভিন্ন অঞ্চলের তেলবাহী ওয়াগন (তেলের গাড়ি) চলাচলে দিনরাত সরগরম ছিল সিজিপিওয়াই।
কিন্তু গত ৫–৬ মাস ধরে রেলের ইঞ্জিন সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল প্রায় শূণ্যের কোটায় নেমে এসেছে। এখন চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ড (সিজিপিওয়াই) থেকে দিনে মাত্র একটি পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করছে বলে জানান সিজিপিওয়াইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আবার অনেক দিন ইঞ্জিন না পাওয়ায় পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকছে বলেও জানা গেছে।
চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ডের দায়িত্বে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ইঞ্জিন সংকটে সিজিপিওয়াইয়ে কন্টেনারের স্তুপ পড়েছে। সম্প্রতি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কাছে কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, পর্যাপ্ত রেল ইঞ্জিনের অভাব, অনিয়মিত ট্রেন পরিচালনা এবং কার্যকর সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আইসিডি কমলাপুরমুখী কন্টেনার পরিবহন ক্রমেই কমে যাচ্ছে। ফলে আইসিডি কমলাপুর কার্যত অচলাবস্থার দিকে যাচ্ছে।
এই ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ের চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ডের (সিজিপিওয়াই) ট্রাফিক ইন্সপেক্টর এনামুল হক সিকদার আজাদীকে জানান, ইঞ্জিনের অবস্থা খুবই খারাপ। সিজিপিওয়াই থেকে এখন দিনে মাত্র একটি কন্টেনারবাহী ট্রেন চলাচল করে। আগে প্রতিদিন ৫–৬টি পণ্যবাহী ট্রেন যেত। আজকে (গতকাল) দিনে একটি রাতে একটি গেছে। এর আগে গত বুধবার–মঙ্গলবার শুধু একটি করে ট্রেন গেছে। কন্টেনারের স্তুপ পড়ে গেছে; আগে ছিল না। এরমধ্যে কন্টেনারের পরিমাণ বেড়েছে।
আইসিডি কমলাপুরের কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কন্টেনার পরিবহনে অনিয়ম এবং আমদানিকারকদের ওপর ডিটেনশন ও ডেমারেজ চার্জ আরোপ বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ চেয়েছে ঢাকা কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন।
কন্টেনারে পণ্য পরিবহনকারী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ– রেলওয়ের ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণে আমদানিকারকরা আইসিডি ব্যবহার করতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এতে কন্টেনার দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকছে এবং আমদানিকারকদের লাখ লাখ টাকা ডিটেনশন ও ডেমারেজ চার্জ গুণতে হচ্ছে।
আইসিডি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রমে বিঘ্ন, কাঁচামাল সরবরাহে সংকট এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় (সাপ্লাই চেইন) নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এর প্রভাব দেশের সামগ্রিক ব্যবসা–বাণিজ্য ও জাতীয় অর্থনীতিতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক সভা ও আলোচনায় আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে আইসিডি–গামী কন্টেনার পরিবহনের জন্য ন্যূনতম চারটি রেল ইঞ্জিন নির্ধারণ করে নিয়মিত ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরও সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি। পণ্য পরিবহনে ইঞ্জিন বাড়ানো হয়নি।












