মহালছড়িতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ স্বজনদের

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি | রবিবার , ৩০ আগস্ট, ২০২৬ at ৫:৪১ পূর্বাহ্ণ

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার দুর্গম নরেন্দ্র কার্বারীপাড়া এলাকায় নিকা ত্রিপুরা (৩০) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করে মহালছড়ি থানা পুলিশ। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে ধর্ষণের পর গলা চেপে হত্যা করার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

নিহত নিকা ত্রিপুরার স্বামী সেতু ত্রিপুরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আনসার সদস্য হিসেবে কর্মরত। ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। নিহতের আট বছর বয়সী মেয়ে শিখা ত্রিপুরা জানায়, শুক্রবার রাতে সে পাশের গ্রামে নানির বাড়িতে ছিল। শনিবার সকালে নানির বাড়ি থেকে নিজেদের বাড়িতে ফিরে মাকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পায়নি। ভয় পেয়ে সে স্কুলে চলে যায়। পরে স্কুলে গিয়ে জানতে পারে, তার মা মারা গেছেন।

স্থানীয় কার্বারী থৈঅংগো মারমা বলেন, কিছুদিন আগে স্থানীয় যুবক খোকন ত্রিপুরার সঙ্গে নিকা ত্রিপুরার সম্পর্কের অভিযোগ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে নিকা ত্রিপুরা কার্বারীর কাছে বিচার দেন। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হলেও তাদের মধ্যে আবার যোগাযোগ ছিল বলে দাবি করেন থৈঅংগো মারমা।

তিনি আরও বলেন, শনিবার (গতকাল) সকালে নিকা ত্রিপুরার মরদেহের পাশে একটি মুঠোফোন পড়ে থাকতে দেখা যায়। খোকন ত্রিপুরা ওই ফোনটি নিয়ে যান বলে তিনি দাবি করেন। পরে ফোনে থাকা কলের নম্বরগুলো মুছে ফেলারও অভিযোগ করেন কার্বারী।

এদিকে নিহতের স্বজনদের দাবি, নিকাকে ধর্ষণের পর গলা চেপে হত্যা করা হয়েছে। নিকার ঘরে প্রায় চার ভরি স্বর্ণ ও সাত লাখ টাকা ছিল। মৃত্যুর পর এসব স্বর্ণ ও টাকা পাওয়া যাচ্ছে না।

খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পর মহালছড়ি থানাপুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তিনি আরও বলেন, স্বজনদের করা ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ, স্থানীয় ব্যক্তিদের করা সম্পর্কের দাবি এবং স্বর্ণ ও টাকা নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। নিহতের স্বামী ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে খাগড়াছড়ির পথে রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে নিম্নমানের পণ্যের দাপট