কাদা মাড়িয়ে দূর গ্রাম থেকে সুপেয় পানি সংগ্রহ

দেলওয়ার হোসাইন, পেকুয়া | মঙ্গলবার , ২৮ জুলাই, ২০২৬ at ৫:২৬ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের পেকুয়া পৌরসভার পূর্বগোঁয়াখালী বাকপাড়া এলাকায় সুপেয় পানির তীব্র সংকটে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ১৪টি পরিবার। খাবার পানি ও দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য নিরাপদ পানির স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এসব পরিবারের নারী ও শিশুদের প্রতিদিন কাদাপানির দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে দূরবর্তী এলাকা থেকে পানি সংগ্রহ করে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে এলাকার অধিকাংশ নিচু স্থান পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে কোনো রকমে পানির চাহিদা মেটাতে হয় তাদের। তবে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরও সুপেয় পানির সংকট থেকে যায়। ফলে সংসারের নিত্যদিনের কাজ সামলে প্রতিদিন দূরবর্তী এলাকা থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে গৃহিণীদের। স্থানীয় বাসিন্দা মো. নুরুল হোসেন বলেন, এলাকায় নিরাপদ খাবার পানির স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এ দুর্ভোগ চলছে। বিশেষ করে বর্ষা ও বন্যার সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। পানির জন্য নারীদের পাশাপাশি শিশুদেরও কাদাপানির পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। গৃহবধূ মনছুরা বেগম বলেন, এক হাতে কোলের ছোট শিশুকে সামলাতে হয়, অন্য হাতে পানিভর্তি কলস নিয়ে কাদাপানির দুর্গম পথ পাড়ি দিতে হয়। প্রতিদিন এভাবেই জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে সুপেয় পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে আমাদের। একটি টিউবওয়েল না থাকায় ১৪টি পরিবারের নারী ও শিশুদের দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কখনো শিশুকে কোলে, আবার কখনো মাথায় পানির কলস নিয়ে এভাবেই আমাদের দিন কাটছে। আমরা শুধু একটু নিরাপদ পানির ব্যবস্থা চাই, যেন আর কাদা মাড়িয়ে দূরদূরান্তে পানি সংগ্রহ করতে না হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, কাদাযুক্ত দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে ছোট শিশুকে সঙ্গে নিয়ে পানি সংগ্রহ করে বাড়ি ফিরছেন এক নারী। একদিকে কোলে শিশু, অন্যদিকে পানির পাত্র এভাবেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পানি বহন করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। বর্ষাকালে কাদায় পা পিছলে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, শিশু ও বয়স্কদের জন্য এ পথ আরও ঝুঁকিপূর্ণ।

এলাকাবাসী জানান, প্রতিটি পরিবারের রান্না, পান করা, শিশুদের প্রয়োজনসহ দৈনন্দিন নানা কাজে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পানির প্রয়োজন হয়। কিন্তু ১৪টি পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপদ পানির উৎস না থাকায় বাধ্য হয়ে দূরবর্তী এলাকা থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি নারী ও শিশুদের শারীরিক কষ্টও বাড়ছে।স্থানীয় গৃহবধূ নাছিমা আক্তার বলেন, বন্যার সময় পানির উৎসগুলো দূষিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। নিরাপদ পানির সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে কেউ কেউ ঝুঁকিপূর্ণ উৎসের পানি ব্যবহার করলে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে বন্যার পর ডায়রিয়া, আমাশয়সহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই দ্রুত ওই এলাকায় নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা জরুরি।

এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে দ্রুত একটি গভীর নলকূপ স্থাপন, নিরাপদ পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা অথবা প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি বন্যাকবলিত ও সুপেয় পানির সংকটে থাকা পরিবারগুলোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহেরও দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, পেকুয়া উপজেলার সব এলাকায় সুপেয় পানি ও নিরাপদ স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব এলাকায় গভীর নলকূপের সংকট রয়েছে, সেসব এলাকায় দ্রুত গভীর নলকূপ বরাদ্দের মাধ্যমে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধে মতবিনিময় সভা
পরবর্তী নিবন্ধনবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা সদর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে হরতাল পালিত