কাপ্তাই লেকের পানি ছেড়ে দেয়ায় শুষ্ক মৌসুম নিয়ে শঙ্কা

ওয়াসার ৪টি পানি শোধনাগারে দৈনিক উৎপাদন কমবে ৮-১০ কোটি লিটার সংকটে পড়বে বিদ্যুৎ সরবরাহও

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৫:১৭ পূর্বাহ্ণ

বর্ষার মৌসুম শেষের দিকে। এই সময়ে কাপ্তাই লেকে পানির লেভেল থাকার কথা ছিল ১০৮ ফুট (এমএসএল)। গত বছর এই সময়ে লেকে পানির লেবেল ১০৮ ফুট ছিল। কিন্তু গতকাল কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য মতে, বর্তমানে কাপ্তাই লেকে ১০৫ দশমিক ৪৯ ফুট পানি রয়েছে। কাপ্তাই বাঁধের সর্বোচ্চ পানির ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট (এমএসএল)। যা বিপদসীমা হিসেবে ধরা হয়।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপকের দপ্তর থেকে জানা গেছে, বর্তমানে লেকে বিপদসীমার সাড়ে ৩ ফুট কম পানি থাকার পরও গতকাল রাঙামাটি প্রশাসনের নির্দেশে কাপ্তাই লেকের ১৬টি স্পিলওয়ে ৬ ইঞ্চি করে খুলে দিয়ে পানি কর্ণফুলী নদীতে ছাড়া হচ্ছে।

এদিকে চট্টগ্রাম ওয়াসা এবং কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপকের দপ্তর থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, বর্ষা মৌসুমের শেষ দিকেএই সময়ে কাপ্তাই লেকে অধিক উচ্চতায় পানি সংরক্ষণ করা না হলে সামনের শুষ্ক মৌসুমে (কয়েক মাসের মধ্যে) কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং চট্টগ্রাম ওয়াসার চট্টগ্রাম মহানগরীতে পানি সরবরাহ তীব্র সংকটের মুখে পড়তে পারে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই লেকের পানির ধারণ ক্ষমতা তথা কর্ণফুলী নদীর পানির প্রবাহের উপর নির্ভর করে চট্টগ্রাম ওয়াসার পানির উৎপাদন। কাপ্তাই লেক থেকে নদীর পানির প্রবাহ কমে গেলে রাঙ্গুনিয়াস্থ চট্টগ্রাম ওয়াসার সর্ববৃহৎ পানি শোধনাগার কর্ণফুলী১ ও ২ এর পানি উৎপাদন হ্রাস পায় এবং পাশাপাশি কাপ্তাই লেক থেকে পানি প্রবাহ কমে গেলে সমুদ্রের পানি হালদা নদীতে প্রবেশ করে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পায়। ফলে হালদা নদীর তীরে অবস্থিত ওয়াসার দুইটি পানি শোধনাগার যথাক্রমে মোহরা ও মদুনাঘাট পানি শোধনাগারে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম জানান, কাপ্তাই লেকের পানির প্রবাহ কমে গেলে হালদায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি পায়। এই লবণাক্ততা পরিহারের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্ণফুলী১ ও ২ সহ মোহরা এবং মদুনাঘাট পানি শোধনাগারের উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়। এরূপ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম শহরে সুপেয় পানি সরবরাহ ৮ থেকে ১০ কোটি লিটার হ্রাস পায়। ফলে মহানগরীতে পানির জন্য হাহাকার ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।

ওয়াসার বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে জানা যায়, কাপ্তাই লেকের পানি ছাড়ার জন্য বিভিন্ন অংশীজনদের থেকে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম ওয়াসা আংশঙ্কা প্রকাশ করছে যে, এভাবে চলতে থাকলে শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই লেকের পানির ধারণ ক্ষমতা অধিকহারে হ্রাস পাবে। ফলশ্রুতিতে পানির উৎপাদন হ্রাস পাবে এবং চট্টগ্রাম শহরে পানির জন্য হাহাকার ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হবে।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপকের দপ্তর থেকে জানা গেছে, শুষ্ক মৌসুমে চট্টগ্রাম শহরে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্রে লবণাক্ততা অনুপ্রবেশ প্রশমন করার জন্য নভেম্বর থেকে মে পর্যন্ত কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অন্তত ২টি ইউনিট চালু রাখার জন্য বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনা রয়েছে।

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, জাতীয় বিদ্যুৎ চাহিদা অনুযায়ী ১ নভেম্বর পর্যন্ত ৫টি ইউনিট চালু রাখতে হয়। অক্টোবরের ১ তারিখ যদি কাপ্তাই লেকে পানির লেভেল ১০৬ ফুট এমএসএল থাকে, এতে ১ মাস পর নভেম্বরের ১ তারিখ পানি লেবেল ১০২ ফুটে নেমে যেতে পারে (বিগত বছরের পর্যালোচনার ভিত্তিতে)। ১ নভেম্বর থেকে ২টি করে ইউনিট চালু রাখলেও এপ্রিল মাসেই হ্রদের পানির উচ্চতা ৭০ ফুটে বা ডেড স্টোরেজে পৌঁছে যেতে পারে এবং এতে আর ১টি ইউনিটও চালু রাখা সম্ভব হবে না। তাই বর্ষা মৌসুমের শেষদিকে অধিক উচ্চতায় পানি সংরক্ষণ করা না হলে শুষ্ক মৌসুমে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পানি সরবরাহ এবং নাব্যতা বজায় রাখা তীব্র সংকটের মুখে পড়তে পারে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকৌতুক কণিকা
পরবর্তী নিবন্ধনিজেই অপহরণের নাটক সাজিয়ে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি