বিদেশি ঋণ পরিশোধে রেকর্ড, ১১ মাসেই ছাড়াল চার বিলিয়ন ডলার

| বুধবার , ২৪ জুন, ২০২৬ at ৫:৪৫ পূর্বাহ্ণ

উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতির মধ্যে চলতি ২০২৫২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বিদেশি ঋণের অর্থ ছাড়ে সুখবর না মিললেও অতীতের ঋণের দায় মেটানোর হিসাব সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেল। গতকাল মঙ্গলবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্য বলছে, জুলাইমে সময়ে আগের নেওয়া ঋণের বিপরীতে বাংলাদেশ সহযোগী সংস্থা ও দেশগুলোকে পরিশোধ করেছে ৪১৩ কোটি ডলার; যা গত অর্থবছরের পুরো সময়ের চেয়ে চার কোটি ডলার বেশি।

২০২৪২৫ অর্থবছরের পুরো সময়ে অতীতের ঋণের দায় মেটাতে ৪০৯ কোটি ডলার খরচ করেছিল বাংলাদেশ। সেবারই প্রথম দায় শোধের পরিমাণ ৪০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছিল। গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে সুদ ও আসল মিলিয়ে পরিশোধ করতে হয়েছিল ৩৭৮ কোটি ডলার; এ হিসেবে চলতি অর্থবছরের এ সময়ে এ খাতে সরকারের ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। উল্টোদিকে জুলাইমে সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের বিদেশি ঋণের অর্থ ছাড়ের পরিমাণ আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে কমেছে।

এই সময়ে উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী সংস্থাগুলো ঋণ এবং অনুদানের ৪৫৭ কোটি ৭১ লাখ ডলার ছাড় করেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৫৬০ কোটি ৮১ লাখ ডলার। অর্থ্যাৎ, বিদেশি ঋণের অর্থছাড় প্রায় সাড়ে ১৮ শতাংশ কমে গেছে। পরিসংখ্যান যখন প্রতিকূল পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে, তখন আগামী ২০২৬২৭ অর্থবছরের বাজেটে বড় অংকের বৈদেশিক ঋণের ওপর ভর করে ব্যয় নির্বাহের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর উপর ভিত্তি করেই চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১৯ শতাংশ সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়েছে বিএনপি সরকার।

নতুন অর্থবছরে আয়ব্যয়ের ঘাটতি মেটাতে বিদেশি উৎস থেকে ঋণ বাড়ানোর লক্ষ্য ঠিক করতে গিয়ে নিট বিদেশি ঋণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে গত অর্থবছরে পাওয়া নিট বিদেশি ঋণের প্রায় দ্বিগুণ।

বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার বিদেশ থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ঋণ করার লক্ষ্য ধরেছে, যা জিডিপির ২ দশমিক ২৮ শতাংশ। অর্থাৎ সংকটের এই সময়ে বাজেটের মোট ঘাটতির ৬৪ দশমিক ১৩ শতাংশই বিদেশি ঋণ দিয়ে পূরণের আশা করছে নতুন সরকার।

এর মধ্যে ৪৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে আগে নেওয়া ঋণের কিস্তি আর সুদ পরিশোধে। তাতে নিট বিদেশি ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লাখ ৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত নিট বিদেশি ঋণের চেয়ে ৮৯.৪ শতাংশ বেশি।

বিদায়ী অর্থবছরের বাজেটে বিদেশি ঋণের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। সংশোধনের পর তা কমে ৯৫ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়ায়। আর কিস্তি ও সুদ মিটিয়ে নিট বিদেশি ঋণ ছিল ৫৮ হাজার কোটি টাকা।

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্থনীতিতে শুরু হওয়া ‘অস্থিরতা’ না কাটায় গত দেড় বছরে উন্নয়ন কার্যক্রমে খুব একটা গতি আসেনি। এ কারণে বিদেশি ঋণের অর্থছাড়েরও গতি কম।

ইআরডির সবশেষ হালনাগাদ তথ্য বলছে, চলতি ২০২৫২৬ অর্থবছরের জুলাইমে সময়ে বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতির পরিমাণও কমেছে। এ সময়ে প্রতিশ্রুতি মিলেছে ৪২২ কোটি ডলারের, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৫৪৮ কোটি ডলার। অর্থ্যাৎ ২২ শতাংশের বেশি কমেছে বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতির পরিমাণ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ১১৫ দিন পর হরমুজ পার হলো বাংলার জয়যাত্রা
পরবর্তী নিবন্ধনষ্ট তেল থেকে তৈরি হচ্ছিল লুব অয়েল