প্রধানমন্ত্রীকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ

| বৃহস্পতিবার , ১৩ আগস্ট, ২০২৬ at ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। গতকাল বুধবার ঢাকায় জাপানের প্রতিনিধিদল দেশটির প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণপত্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেয়। ঢাকায় সপ্তম বাংলাদেশজাপান ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রসচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম এবং জাপানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির সিনিয়র ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিরোয়ুকি নামাজু। খবর বাংলানিউজের।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা, সবুজ জ্বালানি, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ), বিগবি উদ্যোগ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। জাপানের সিনিয়র ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিরোয়ুকি নামাজু বাংলাদেশজাপান দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি তৈরিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জাপানের ‘ফ্রি অ্যান্ড ওপেন ইন্দোপ্যাসিফিক’ (এফওআইপি) ধারণা সম্পর্কে বাংলাদেশকে অবহিত করেন। তিনি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ), বিগবি উদ্যোগ এবং অফিসিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স (ওএসএ) কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে সমপ্রতি পাঁচটি টহল জাহাজ হস্তান্তরের বিষয়টিকেও স্বাগত জানান।

বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশজাপান সম্পর্ক উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রস্তাবিত ইপিএ বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ আরও বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বিগবি উদ্যোগের আওতায় জাপানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। এ উদ্যোগের আওতায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎ প্রকল্প, ঢাকা মেট্রোরেল এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের মতো বড় প্রকল্পে জাপানের সহায়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, টেকসই উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সমপ্রসারণে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করে বাংলাদেশ। দুই দেশ জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়। বিশেষ করে জাপানে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য সুযোগ সমপ্রসারণ, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নাগরিক সমাজের মধ্যে বিনিময় কার্যক্রম বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। পররাষ্ট্রসচিব বলেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখের বেশি নাগরিককে আশ্রয় দেওয়ার কারণে বাংলাদেশ বড় ধরনের মানবিক ও আর্থসামাজিক চাপ মোকাবিলা করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান। এ বিষয়ে জাপানের মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতেও মতবিনিময় করে দুই দেশ। জাতিসংঘ সনদের নীতি অনুসরণ এবং বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তারা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবর্তমান সরকারের অধীনে তথ্য বিভ্রান্তির সুযোগ নেই : অর্থমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধচেরাগী পাহাড় এলাকায় মনসা পাল্টা পুঁথি পাঠ আজ