অস্ত্র ও খুনের মামলার পর এবার একটি চাঁদাবাজি মামলায় সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল চট্টগ্রামের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লোকমান হাকিদের আদালত তার রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
চট্টগ্রাম আদালতে থাকা জেলা পুলিশের কোর্ট পরিদর্শক হাবিবুর রহমান দৈনিক আজাদীকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করলে বিচারক ডেভিড ইমনের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ২ আগস্ট অস্ত্র ও খুনের পৃথক দুটি মামলায় তাকে ৫ দিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। নাম–পরিচয় লুকিয়ে ‘মিরাজ’ সেজে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় গত ২৯ জুলাই যশোরের সীমান্ত এলাকা থেকে ৩ সহযোগীসহ গ্রেপ্তার হন ইমন।
পরে তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর এলাকা থেকে ৩টি অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ফটিকছড়ি থানায় ৫ জনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। তারা হলেন, মোবারক হোসেন ইমন প্রকাশ ডেভিড ইমন, মো. শামীম, মো. শাফায়েত হোসেন, আল ইসলাম আলিফ প্রকাশ তমাল ও মোট মিঠু প্রকাশ ধামা ইলিয়াস। ধামা ইলিয়াস আগে থেকে কারাগারে ছিলেন। তার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মূলত সহযোগীসহ চট্টগ্রামজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েমকারী ইমনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
কোর্ট পুলিশসূত্র জানায়, সহযোগীসহ ইমনকে গ্রেপ্তার–পরবর্তী অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা ও গত ১০ জানুয়ারি ফটিকছড়ির লেলাং এলাকায় জামাল হোসেন নামের এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে খুনের মামলায় রিমান্ড মঞ্জুরের দিন ইমনকে হাটহাজারী থানার একটি চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর (শ্যোন অ্যারেস্ট) আদেশ হয়েছিল। উক্ত মামলাতেই আজকে (গতকাল) তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। কয়েক বছর ধরে নগরীসহ উত্তর চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন ইমন।
গত ১২ জানুয়ারি ফটিকছড়ি থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলামূলে ২৬ জুলাই চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখা বরাবর রিকুইজিশন পাঠায় ফটিকছড়ি থানা পুলিশ। সেখান থেকে পত্রটি হাতে পেয়ে অভিযান চালিয়ে ২৯ জুলাই যশোরের কোতোয়ালী থানাধীন সীমান্তবর্তী ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করে যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম। এ সময় তার ৩ সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পরে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হলে তাদেরকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়।











