সবুজ টিলায় পর্যটনের হাতছানি, প্রয়োজন উদ্যোগ

চিড়িঙ্গা আইল্যান্ড

জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া | বৃহস্পতিবার , ১৩ আগস্ট, ২০২৬ at ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ

কর্ণফুলী নদীর মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা একখণ্ড চিরসবুজ টিলা, সাথে পাহাড়ি অরণ্য, নদী ও বন্যপ্রাণীর মেলবন্ধন। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের মীরেরখীল এলাকার এই ‘চিড়িঙ্গা আইল্যান্ডে’ রয়েছে অপার পর্যটন সম্ভাবনা।

কাপ্তাইগামী নদীপথের অন্যতম সুন্দর এই অঞ্চলটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার জন্য অতীতে কোনো একসময় উদ্যোগও নেয়া হয়েছিল। তবে তা আর আলোর মুখ দেখেনি। তবে এখনো সরকারি উদ্যোগে পরিকল্পিত পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হলে একদিকে যেমন বিপুল রাজস্ব আয়ের পথ সুগম হবে, অন্যদিকে অবসান ঘটবে একটি পুরো এলাকার দীর্ঘদিনের স্থবিরতার।

সরফভাটা ইউনিয়নের মীরেরখীল এলাকার সিরিয়া খালের মোহনা ও কর্ণফুলী নদীর সঙ্গমস্থলে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠেছে অনন্য এই টিলাটি, যা স্থানীয়ভাবে “চিড়িঙ্গা আইল্যান্ড” বা “চিড়িঙ্গা দ্বীপ” নামে পরিচিত। চট্টগ্রাম শহর থেকে নদীপথে কাপ্তাই যাওয়ার সময় পর্যটকদের চোখে সরাসরি ধরা পড়ে এই সবুজ টিলাটি। আবার নদীর অপর পাড়ে অবস্থিত বেতাগী ইউনিয়ন এবং সরফভাটা অংশ থেকেও এর সৌন্দর্য স্পষ্ট দেখা যায়।

সামনে খরস্রোতা নদী আর পেছনে বিস্তৃত সবুজ পাহাড়দুইয়ের এই দারুণ মিতালী এলাকাটিকে দিয়েছে বিরল প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য। গহিন জঙ্গলে বন্য হাতি, বানর, হনুমান, ময়ূর এবং হরিণের হাকডাক প্রায় সময়ই শুনতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা।

সড়ক ও নদীউভয় পথের যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় এখানে সুপরিকল্পিত পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব। আধুনিক পর্যটন অবকাঠামো তৈরি হলে এটি ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হবে, যা থেকে সরকার প্রতিবছর বিপুল রাজস্ব আয় করতে পারবে এবং স্থানীয়দের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

স্থানীয়রা জানান, মাত্র ৮১০ বছর আগেও এই চিড়িঙ্গা ফরেস্ট এলাকাটি ছিল মানুষ আর কোলাহলে জমজমাট। শৈশবের স্মৃতি টেনে মো. আজিজ নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা আফসোস করে জানান, ১০ বছর আগেও এখানে সকালে জমজমাট বাজার বসতো। শাকসবজি থেকে শুরু করে দেশি হাঁসমুরগিসহ সব মিলতো। জঙ্গল সরফভাটা থেকে শুরু করে বরখোলা পাড়ার মারমা সম্প্রদায়ের মানুষজন পাহাড়ি শাকসবজি নিয়ে আসতেন, আর বেপারীরা আসতেন নৌকা নিয়ে। প্রকৃতির নান্দনিক রূপ আর ফরেস্ট অফিসকে ঘিরে তখন এক দারুণ পরিবেশ ছিল। অথচ আজ সেই এলাকা প্রায় জনশূন্য।

সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, বর্তমানে এলাকাটির অবস্থা অত্যন্ত করুণ। গোডাউন ব্রিজ হয়ে সরফভাটাবোয়ালখালী সড়ক দিয়ে মীরেরখীল সিরিয়া এলাকায় পৌঁছানো গেলেও মূল স্পটে যাওয়ার সংযোগ সড়কটি জরাজীর্ণ ও কাঁদাময়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, কোমলমতি স্কুল শিক্ষার্থী এবং রোগীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

সরকারি তদারকির চিত্র আরও হতাশাজনক। চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের ‘চিড়িংগা বিট কাম চেক স্টেশন’এর অফিস ভবন ও টহল ঘরগুলো জরাজীর্ণ। অফিসের বাইরে স্তূপ করে রাখা জব্দকৃত শত শত ফুট মূল্যবান সেগুন কাঠ খোলা আকাশের নিচে পচে নষ্ট হচ্ছে। নদীর ঘাট সংলগ্ন পাকা সিঁড়ি দুটিও বেহাল অবস্থা।

এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান জানান, জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কার করে দেয়া হবে। ওই এলাকার নিরাপত্তা এবং সৌন্দর্য বর্ধনে সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিদেশে পালানোর সময় বিমান বন্দরে গ্রেপ্তার অভিযুক্ত পুত্র শওকত
পরবর্তী নিবন্ধসন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ৫ দিনের রিমান্ডে