স্কুল শিক্ষক বিধান মল্লিক (৪৭) শহরের পাথরঘাটা এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বাইক চালিয়ে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন পূজা দিতে। সঙ্গে বাইকের পেছনে নিয়েছিলেন বৃদ্ধ বাবা দুর্গাপদ মল্লিককে (৭৫)। হয়তো ভেবেছিলেন দিনের কাজ শেষে আবারও পরিবারের কাছে ফিরবেন। কিন্তু সেই পথই হয়ে উঠল জীবনের শেষ যাত্রা। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাবা ও ছেলে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতুর প্রথম সিঁড়ি এলাকায় পৌঁছালে বেপরোয়া গতির একটি পিকআপ পেছন থেকে তাদের বাইককে ধাক্কা দিলে বাইক থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান পিতা দুর্গাপদ মল্লিক। গুরুতর আহত অবস্থায় ছেলে বিধান মল্লিককে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
জানা যায়, নিহতদের গ্রামের বাড়ি আনোয়ারা উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের সিংহরা গ্রামে। ছেলে বিধান মল্লিক কর্ণফুলী উপজেলার দৌলতপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে শিক্ষকতা করে আসছিলেন। বিধান মল্লিকের বড় মেয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে আর একমাত্র ছেলের বয়স সাড়ে চার বছর। পরিবারে দুই ভাই এক বোনের মধ্যে শিক্ষক বিধান মল্লিক পরিবারের বড় ছেলে। এই এক সড়ক দুর্ঘটনায় বিধান মল্লিকের স্ত্রী তিন্নি মল্লিক এবং মা স্বপ্না মল্লিক বউ–শাশুড়ি দুজনেই বিধবা হলেন।
নিহত স্কুল শিক্ষক বিধান মল্লিকের ছোট ভাই বাবলা মল্লিক বলেন, সকালে ঘুম ভাঙল ভাই ও বাবার মৃত্যুর সংবাদের ফোনে। গ্রামের বাড়িতে একটা পূজা দেওয়ার কথা ছিল। এ জন্য বাবা ও ভাই গ্রামে যাচ্ছিলেন। বিকেলে ফিরে আসার কথা ছিল। আর ফিরল না।

বাবলা মল্লিক আরও বলেন, সোমবার আমি হাজারী গলির ওষুধের দোকান বন্ধ করে রাত করে বাসায় ফেরাতে বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে শেষ কথাও হয়নি। কোনোভাবেই মানতে পারছি না তারা বেঁচে নেই।
দৌলতপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছির উদ্দীন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, বিধান ছিলেন অত্যন্ত ভালো মানুষ। দক্ষ শিক্ষক হিসেবে তার সুনাম ছিল। শান্ত, ভদ্র ও দায়িত্বশীল একজন মানুষকে আমরা হারালাম। তার বাবাও ছিলেন নিরীহ ও শান্ত স্বভাবের। একই দুর্ঘটনায় বাবা–ছেলের চলে যাওয়ার খবর এখনো বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, বিধান মল্লিকের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, শোকের ছায়া ফেলেছে পুরো শিক্ষাঙ্গনে।
এ ব্যাপারে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর আলম বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপ ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হলেও পিকআপ চালক পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।











