প্রতিবছর ব্যবসা বাণিজ্যে গতি বাড়লেও বাড়ছে না চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সক্ষমতা। বিশেষ করে জনবল সংকটের কারণে যে কাজ দুই ঘণ্টায় শেষ হওয়ার কথা, সেটি দুই দিনেও শেষ হচ্ছে না। ফলে আমদানি-রপ্তানি পণ্য শুল্কায়ন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাস্টমসের জনবল সংকটের বিষয়টি নতুন কোনো ইস্যু নয়। দীর্ঘদিন দিন এ সমস্যা চলছে। এক সময় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে চাপ ছিল না, তখন বিদ্যমান জনবল দিয়ে খুব ভালোভাবেই কার্যক্রম চলতো। কিন্তু গত ৫ বছর ধরে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। কিন্তু কার্যক্রম বাড়ার সাথে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জনবল বাড়ানোয় তেমন কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। ফলে সেবাগ্রহীতাদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কাস্টমসে মোট এক হাজার ২৪৮টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কাজ করছেন ৬৪৭ জন। এছাড়া শূন্য রয়েছে ৬০১টি পদ। অর্থাৎ অনুমোদিত পদের বিপরীতে শূন্য পদ হলো- ৪৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। এরমধ্যে প্রথম শ্রেণীর ২১০টি পদের বিপরীতে শূন্যপদ ৯৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণীর ৪৯৭ পদের বিপরীতে শূন্যপদ ২৩১টি, তৃতীয় শ্রেণীর ৪২৩ পদের বিপরীতে শূন্যপদ ২৫৪টি এবং চতুর্থ শ্রেণীর ১১৮ পদের বিপরীতে শূন্যপদ রয়েছে ২২টি। জনবল কাঠামোতে দেখা গেছে, প্রথম শ্রেণীর ২১০ পদের মধ্যে যুগ্ম কমিশনার পদে ৫ জনের বিপরীতে কাজ করছেন ৩ জন, ডেপুটি কমিশনার পদের ১৬ জনের বিপরীতে কাজ করছেন ১২ জন, উপ প্রধান রাসায়নিক পদের ৩ জনের সবগুলোই শূন্য, সহকারী পরিচালক/পরিসংখ্যান পদের দুই পদের দুটিই শূন্য, সহকারী কমিশনারের ৪৭ পদের বিপরীতে শূন্যপদ ৩০টি, রাসায়নিক পরীক্ষকের দুই পদের দুটিই শূন্য, সহকারী প্রোগ্রামারের দুই পদে কর্মরত আছেন দুইজন, রাজস্ব কর্মকর্তার ১১৯ পদের মধ্যে শূন্যপদ ৪৪টি, আইন উপদেষ্টার এক পদে একজন কর্মরত থাকলেও আইন কর্মকর্তার দুটি পদে কর্মরত আছেন একজন, প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার দুটি পদের দুটিই শূন্য, পরিসংখ্যানের দুই পদের দুটিই শূন্য। অন্যদিকে দ্বিতীয় শ্রেণীর ৪৯৭ পদের মধ্যে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার ৪৮৭ পদের মধ্যে শূন্য পদ রয়েছে ২২১টি, সহকারী রাসায়নিক পরীক্ষকের ৬ পদের ৬টিই শূন্য, অডিটরের দুই পদের দুটিই শূন্য এবং সহকারী হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার দুটি পদ থাকলেও কর্মরত নেই কেউই। তৃতীয় শ্রেণীর ৪২৩ পদের মধ্যে মাস্টারের দুই পদের ২ জনই কর্মরত, কম্পিউটার অপারেটরের ২৯ পদে শূন্য পদ রয়েছে ৯টি, সাব এসিসট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (রেডিও) একপদে কর্মরত আছেন একজন, টেলিফোন সুপারভাইজারের একপদে কর্মরত একজন, অফিস সুপারিনটেনডেন্টের ১৩ পদে শূন্যপদ ৫টি, পরিসংখ্যান অনুসন্ধায়কের এক পদের একটিই শূন্য, রেডিও অপারেটরের দুই পদের শূন্যপদ একটি, প্রধান সহকারী ১৫ পদের মধ্যে শূন্যপদ ৫টি, সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটরের ৫ পদে ৫ জনই কর্মরত, উচ্চমান সহকারী পদে ৮১ পদের মধ্যে শূন্যপদ ৩৩টি, ক্যাশিয়রের দুই পদের শূন্য একটি, স্পিড বোট ড্রাইভার-১ পদের ২টির মধ্যে দুটিই শূন্য, ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের একপদের একটিই শূন্য, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের ৬৩ পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ৫৮টি, সাব ইন্সপেক্টর পদের ১৭টির মধ্যে ১৪টি শূন্য, ড্রাইভার পদের ৪৭টি মধ্যে ৭টি শূন্য, টেলিফোন অপারেটর পদের ৩টির মধ্যে দুটি শূন্য, ইলেক্ট্রিশিয়ানের একটি পদের একটিই শূন্য, সিপাই পদের ১৩৫ পদের মধ্যে ১১৫টিই শূন্য। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণীর ১১৮ পদের মধ্যে ল্যাব এটেনডেন্টের ৩ পদে কর্মরত ৩ জন, কার্পেন্টারের ১ পদে কর্মরত একজন, গ্রিজারের ৪ পদে শূন্যপদ একটি, রেকর্ড সাপ্লাইয়ারের এক পদের একটিই শূন্য, অফিস সহায়ক ৯০ পদের ৬টি শূন্য, কুকের ২ পদের দুটিই শূন্য, লস্করের দুই পদের একটি শূন্য, ঝাড়ুদার/ক্লিনার/সুইপার পদের ৭ পদের মধ্যে শূন্যপদ ৫টি এবং মালী পদের ৮টির মধ্যে শূন্যপদ রয়েছে ৬টি।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার ফখরুল আলম দৈনিক আজাদীকে বলেন, জনবল সংকটের বিষয়টি এনবিআরকে বিভিন্ন সময় অবহিত করা হয়েছে। বিশেষ করে বর্তমানে আমাদের রাসায়নিক পরীক্ষাগারে মাত্র একজন পরীক্ষক দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি সেকশনে পর্যাপ্ত জনবল নেই।











