এনসিটি পরিচালনায় সরকার রাষ্ট্রের স্বার্থকে প্রাধান্য দেবে : নৌ মন্ত্রী

চট্টগ্রামে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটের পাসিং আউট প্যারেড । ‘বাংলার জয়যাত্রা নিয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে’

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ at ৬:০২ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে সরকার রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দেবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এছাড়া, হরমুজ প্রণালি পার হতে না পারা বাংলাদেশি জাহাজ বাংলার জয়যাত্রা নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

সড়ক পরিবহন, সেতু ও রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম গতকাল শনিবার সকালে চট্টগ্রামে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটের ২৮তম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী রেটিংসদের শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি বিদেশি অপারেটরকে দেওয়া হবে কিনা এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার দেশের স্বার্থ, বন্দরের লাভ এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সম্ভাবনাসহ সব বিষয় বিবেচনা করবে। যাই হোক, দেশের স্বার্থ রক্ষা করা হবে। তিনি আরও বলেন, দেশে জ্বালানির কৃত্রিম চাহিদা ও সংকট তৈরি করা হচ্ছে। এর প্রমাণ হিসেবে হাজার হাজার লিটার মজুত করা ডিজেল জব্দ করা হয়েছে। আমাদের চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবে কোনও সংকট নেই। সরকার জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে। যেকোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এর আগে পাসিং আউট অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বাংলাদেশের মেরিটাইম ক্যাডেটরা বিশ্বজয় করতে প্রস্তুত বলে মন্তব্য করে বলেন, মেরিটাইম খাতের প্রশিক্ষিত তরুণরাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সক্ষমতার নতুন দূত হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে বিশ্ব সমুদ্র অর্থনীতিতে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে বদ্ধপরিকর বাংলাদেশ।

নবীন ক্যাডেটদের দেশ ও জাতির সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা কেবল জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং এটি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের মূল ভিত্তি। আপনারা যখন বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে কাজ করবেন, তখন আপনাদের পেশাদারিত্ব ও স্মার্টনেসের মাধ্যমেই বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।

প্রশিক্ষণকালীন প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ জয়ের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর দুইতৃতীয়াংশই জলভাগ। এক সময়ের দুর্গম এই সমুদ্র আজ আধুনিক বিশ্বের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। জাহাজ ব্যবস্থাপনা বা নৌচলাচলযে বিভাগেই আপনারা থাকুন না কেনো, সততা ও দৃঢ়তার সাথে কাজ করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, কেবল সার্টিফিকেট সর্বস্ব শিক্ষা অনেক সময় বেকারত্বের সৃষ্টি করে। কিন্তু মেরিটাইম প্রশিক্ষণের মতো কারিগরি শিক্ষা নিশ্চিত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। নব্বইয়ের দশক থেকে এই ইনস্টিটিউট যে দক্ষ জনবল তৈরি করছে, তা দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে। ভবিষ্যতে এই খাতের আরও আধুনিকায়ন ও সমপ্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। অনুষ্ঠানে ক্যাডেটদের শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে স্বাস্থ্য সচেতনতার পাশাপাশি দীর্ঘসময় রোদে কাজ করার ক্ষেত্রে সানস্ক্রিন ব্যবহারের মতো ব্যবহারিক পরামর্শও দেন মন্ত্রী।

পাসিং আউট প্যারেডে ক্যাডেটদের সুশৃঙ্খল কুচকাওয়াজ ও কুশলতা উপস্থিত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অভিভাবকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী সফলভাবে কোর্স সম্পন্নকারী ক্যাডেটদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআবারও হরমুজ থেকে ফিরে গেল বাংলার জয়যাত্রা
পরবর্তী নিবন্ধমোবাইল ফোন সংক্রান্ত বিরোধেই কি হত্যাকাণ্ড