ফটিকছড়িতে সেচ সংকট, পুড়ছে ৬০০ শতক জমির আখ

মোহাম্মদ জিপন উদ্দিন, ফটিকছড়ি | রবিবার , ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ at ৫:৫৮ পূর্বাহ্ণ

ফটিকছড়িতে হালদা নদীর পাড়ে সেচ সংকটে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে প্রায় ৬০০ শতক জমির আখ। জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে পাম্প চালানো সম্ভব না হওয়ায় সময়মতো সেচ দিতে পারছেন না চাষিরা। ফলে তপ্ত রোদে মাঠেই শুকিয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার আখ। দ্রুত সেচ নিশ্চিত করা না গেলে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। তবে কৃষকদের অভিযোগ, এই কৃত্রিম ডিজেল সংকটের মূলে রয়েছে এলাকা দাপিয়ে বেড়ানো শত শত মাটিবাহী ড্রাম ট্রাক। এসব গাড়ি অতিরিক্ত ডিজেল আগাম সংগ্রহ করে নেওয়ায় সাধারণ কৃষকরা সেচের জন্য প্রয়োজনীয় তেল পাচ্ছেন না। সরেজমিনে নাছির মোহাম্মদ ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, হালদা নদীর পাড়ের বিস্তৃত আখের খেতে এখন কেবলই হতাশার ছাপ। প্রচণ্ড তাপে আখের পাতাগুলো শুকিয়ে তামাটে বর্ণ ধারণ করেছে। অনেক খেতে কচি আখগুলো নেতিয়ে পড়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, নদীর ঠিক পাড়েই তাদের জমি হওয়া সত্ত্বেও জ্বালানি তেলের অভাবে সেচ চালাতে পারছেন না। অথচ এ সময়টাতেই আখের কান্ড বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত সেচ প্রয়োজন।

নাছির মোহাম্মদ ঘাট এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. সোহেল জানান, চলতি মৌসুমে আখের ফলন নিয়ে তিনি ব্যাপক আশাবাদী ছিলেন। হাড়ভাঙা খাটুনি আর ধারদেনা করে আখের আবাদ করেছি। নদী কাছে থাকলেও তেল নেই বলে পাম্প ঘুরছে না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এলাকায় শত শত ড্রাম ট্রাক দিনরাত মাটি কাটছে। অভিযোগ আছে, এই মাটিবাহী গাড়িগুলো পাম্প থেকে অতিরিক্ত ডিজেল নিয়ে মজুত করছে। ফলে আমরা কৃষকরা যখন ৫১০ লিটার তেলের জন্য যাই, আমাদের বলা হয় তেল নেই। আবার ২০ লিটার লাগলে মাঝেমধ্যে ২৩ লিটার দেয়। তাও ৪৫ ঘণ্টা অপেক্ষার পর। মাটির ব্যবসার কাছে আমাদের সোনার ফসল আজ জিম্মি।

আরেকজন প্রবীণ কৃষক শেখ আহমেদ বলেন, আমার চাষাবাদ জীবনে এমন পরিস্থিতির মুখে আর কোনোদিন পড়তে হয়নি। আখ আবাদ করা এই এলাকার কৃষকদের জন্য কোটি টাকার বিষয়। ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আখ গাছ মরে গেছে, অথচ মাটি কাটার গাড়িগুলো ঠিকই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। প্রশাসন যদি এই ড্রাম ট্রাকের তেলের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে কৃষকদের অগ্রাধিকার না দেয় তবে আমাদের পথে বসা ছাড়া উপায় নেই। সরকারিভাবে তেলের ব্যবস্থা না করলে আমাদের পথে বসতে হবে।

ফটিকছড়ি সুন্দর অয়েল ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার আবুল মনছুর বলেন, সিজন ছাড়া আমাদের দৈনিক ৯১০ হাজার লিটার ডিজেল লাগে। অথচ এখন সিজনে আমরা তা পাচ্ছি মাত্র সাড়ে ৪ হাজার লিটার। যা প্রয়োজনের অর্ধেকও না।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার আবু সালেক বলেন, ফটিকছড়ির সুয়াবিল এলাকায় বিশেষ করে নাছির মোহাম্মদ ঘাট এলাকায় আখের ফলন অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক ছিল। বর্তমানে দেশব্যাপী জ্বালানি তেলের যে সংকট চলছে, তার প্রভাব কৃষি সেচেও কিছুটা পড়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি যেন কৃষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডিজেল সরবরাহ করা হয়। এছাড়াও প্রয়োজনে কৃষকদের তেল দেয়ার জন্য নিয়মিত প্রত্যয়ন দিচ্ছি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাড়লো জ্বালানি তেলের দাম
পরবর্তী নিবন্ধঘর বাঁচাতে গিয়ে জীবন দিলেন মনতুষ