যে হাতে ক্যানোলা সেই হাতেই রং পেন্সিল। ফ্লোরে বসে মনের আনন্দে আঁকছে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। গতকাল রোববার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৪তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে জটিল রোগে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে এই আয়োজন করে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল কতৃর্পক্ষ। এমন দৃশ্য দেখে আপ্লুত হন হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনেরা। যা জনমনে সাড়া ফেলেছে।
সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, রঙ–বেরঙের বেলুন দিয়ে সাজানো হয়েছে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ। ওয়ার্ডগুলো সাজানো হয় ফুলে ফুলে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ছবি আঁকা ও খেলনা সামগ্রী বিতরণ বেশ সাড়া ফেলেছে অভিভাবক ও শিশুদের মাঝে। হাতে ক্যানোলা, স্বল্প সময়ের জন্য স্যালাইন খুলে, অক্সিজেন মাস্ক সরিয়ে রেখে অনন্য এই আয়োজনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সামিল হয়ে ওয়ার্ডের অভ্যন্তরেই ছবি আঁকে একঝাঁক শিশুরোগী। রোগের তাড়না ভুলে তারা রং পেন্সিলের ক্যানভাসে তুলে ধরে তাদের ভালো লাগা, ভালবাসার গল্প।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আশিকুর রহমান বলেন, সুস্থতার জন্য মন প্রফুল্ল রাখা আবশ্যক। ওয়ার্ডে বরাদ্দ চল্লিশ শয্যার বিপরীতে রবিবার ভর্তি ছিল ৯৪ জন রোগী। ঔষধের পাশাপাশি শিশুদের দ্রুত সুস্থ করে তোলা, মানসিক বিকাশ এবং বিশেষ করে শিশু দিবসে হাসপাতালে ভর্তি শিশুরা যেন বাদ না পড়ে সেই লক্ষ্যেই এই ভিন্নধর্মী আয়োজন। শিশুদের হাসিমুখ আমাদেরকে প্রেরণা যোগায়। পাশাপাশি অভিভাবকদের সন্তুষ্টি সরকারি হাসপাতালের গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থা যোগায়।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মং টিং ঞো জানান, কক্সবাজার সদর হাসপাতাল দেশের সেরা সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠান হিসাবে আমরা গড়ে তুলবো। যারা হাসপাতালে আসে রোগী হিসাবে তাদের আমরা পরিবারের একজন সদস্য হিসাবে সেবা প্রদান করে যাচ্ছি। আজকের আয়োজন ছিল দেখার মতো। একজন শিশু হাতে ক্যানোলা থাকলেও বিছানা থেকে নেমে ছবি আঁকার জন্য চলে এসেছে। এই দৃশ্য সত্যি আবেগের।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডা. জি আর এম জিহাদুর ইসলাম, ডা. ইয়াসির আরাফাত, ডা. আশীষ দে, ডা. শহীদুল আলম ও ডা. মো. সাইফুল্লাহসহ আরও অনেকে।














