সুখছড়ি খালের ভাঙনে বিলীন গ্রামীণ সড়ক

লোহাগাড়ায় শতাধিক পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

মোহাম্মদ মারুফ, লোহাগাড়া | সোমবার , ২৭ জুলাই, ২০২৬ at ৫:০২ পূর্বাহ্ণ

লোহাগাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সুখছড়ি খালের ভয়াবহ ভাঙনে একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কের বড় অংশ বিলীন হয়ে গেছে। এতে শতাধিক পরিবারের একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি স্কুলকলেজ, মাদ্‌রাসার শিক্ষার্থী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের সময় থেকেই সড়কটি বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। এবার ভারী বর্ষণে খালের তীব্র স্রোতে সড়কের অবশিষ্ট অংশও ভেঙে যায়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

অপরদিকে, সড়কের পূর্ব পাশে থাকা আলকুনি পাড়া সড়কও বর্ষাকালে পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থাও অকার্যকর হয়ে পড়ে।

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অপেক্ষায় থাকা এই গ্রামীণ সড়কটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ ও খালপাড়ে স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আগামী বর্ষায় শুধু যোগাযোগই নয়, আশপাশের বসতবাড়িও খালের ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, সদর ইউনিয়নের ডলুকুল হয়ে সুখছড়িকুল এলাকায় প্রবেশের সড়কের কামাল কোম্পানি বাড়ি সংলগ্ন অংশটি সম্পূর্ণ খালগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে ওই স্থানে সড়কের কোনো অস্তিত্ব নেই। ফলে এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে আশপাশের বাড়ির উঠান ও বিকল্প সরু পথ ব্যবহার করে চলাচল করছেন। অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল আজিজ জানান, এটি আমাদের একমাত্র চলাচলের পথ। দ্রুত সড়কটি সংস্কার না করলে আগামী বর্ষায় খালের পানির চাপে আমাদের বাড়িঘরও হুমকির মুখে পড়বে। এছাড়া সড়ক না থাকায় প্রতিদিন চরম কষ্টে চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে। নির্বাচনের সময় অনেকেই এই সড়ক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে আর কেউ খোঁজ নেন না। দ্রুত ভাঙন রোধ ও সড়ক পুননির্মাণ করা প্রয়োজন।

সুখছড়ি আদমের পুকুরপাড় নূরানী মাদ্‌রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. হাছান জানান, শিক্ষার্থীরা এখন এই পথ দিয়ে চলাচল করতে পারে না। অনেককে বাড়ির উঠান ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ও ঝুঁকি দুটোই বেড়েছে।

সুখছড়িকুল সমাজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. ইউনুচ জানান, আগে এলাকাবাসীর কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে কয়েকবার নিজেদের উদ্যোগে সড়কটি মেরামত করা হয়েছিল। কিন্তু এবার পুরো অংশ খালের গর্ভে চলে যাওয়ায় আর কিছুই করার নেই। পূর্বপুরুষের আমল থেকে এলাকাবাসী এই পথ ব্যবহার করে আসছে। এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোটাই বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য এনামুল হক বাবুল জানান, ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ থেকে ইট দিয়ে সাময়িক সংস্কারের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ভারী বর্ষণে পুরো অংশই খালের গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। সুখছড়ি খালের ভাঙনে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রামের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী প্রশান্ত তালুকদার জানান, ভাঙনের বিষয়টি অবগত হয়েছি। উপসহকারী প্রকৌশলীকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআসাদুজ্জামান নূর, ফেরদৌস, শাওনসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ
পরবর্তী নিবন্ধবন নেই করিডোর নেই, বিপন্ন বন্য হাতির পাল