ভালোবাসায় সিক্ত ছোট্ট বীরের গল্প

দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে স্কুলে গেল ওয়াসিফা

জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া | সোমবার , ২৭ জুলাই, ২০২৬ at ৫:০৩ পূর্বাহ্ণ

ভয় আর অনিশ্চয়তার আঁধার পেরিয়ে অবশেষে আলোয় ফিরল ছোট্ট ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন। অপহরণের ট্রমা পেছনে ফেলে বইখাতা হাতে আবার স্কুলে ফিরেছে রাঙ্গুনিয়ার এই শিক্ষার্থী। তাকে বরণ করে নেওয়ার সেই মুহূর্ত রূপ নিয়েছিল এক অনন্য আবেগঘন উৎসবে।

রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ৮টা। ঘুম থেকে উঠে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল ছোট্ট ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন। তাকে রেডি করে দিয়ে রাস্তা পর্যন্ত এগিয়ে দেন মা তাসলিমা বেগম।

এসময় মা ও নানি এই অপহরণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন। অন্যদিকে বাবা দেলোয়ার হোসেনের হাত ধরে ওয়াসিফা যখন স্কুলের পথে হাঁটছিলো অন্যদিকে তখন রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা ইউনিয়নের ইমাম আজম আবু হানিফা বিদ্যালয়ের মূল ফটকে মানুষের ভিড়।

শিক্ষক, সহপাঠী আর অভিভাবকদের চোখ অপেক্ষায়। কিছুক্ষণ পরেই সেখানে উপস্থিত হয় নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী ওয়াসিফা। কয়েক দিন আগেও যে স্কুলে যাওয়াআসা ঘিরে তৈরি হয়েছিল এক বীভৎস স্মৃতি, আজ সেই স্কুলেই সে ফিরেছে ভালোবাসা ও নতুন সাহসে ভর করে।

ওয়াসিফা স্কুলে পৌঁছাতেই চারদিক থেকে ভেসে আসে সহপাঠীদের সমবেত কণ্ঠ– ‘প্রিয় ওয়াসিফা, তোমাকে আমাদের স্কুলে স্বাগতম।’

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মো. নুরুল আবছার ছোট্ট ওয়াসিফার হাতে তুলে দেন ভালোবাসার উপহার। এরপর দুই সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা সহপাঠীরা করতালির মাধ্যমে তাকে শ্রেণিকক্ষ পর্যন্ত এগিয়ে নেয়।

ক্লাসরুমে পা রাখতেই আবেগাপ্লুত বন্ধুরা একে একে এসে জড়িয়ে ধরে তাকে। কারো মুখে স্বস্তির হাসি, কারো চোখে জল। মুহূর্তেই হারিয়ে যায় কয়েক দিনের ভয় আর আতঙ্কের ছাপ। মনে হচ্ছিল, কোনো কঠিন যুদ্ধ জয় করে শৈশবের আঙিনায় ফিরে এসেছে এক ছোট্ট বীর।

উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার পথে অপহরণের শিকার হয় ওয়াসিফা।

দুর্বৃত্তরা তার বাবার অসুস্থতার মিথ্যা কথা বলে তাকে একটি টেক্সিতে তুলে নিয়ে যায়। সহপাঠীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং পরবর্তীতে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়।

পরের দিন রাতেই পুলিশি তৎপরতায় ওয়াসিফাকে তার বাবার এক মামাতো ভাইয়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ জানায়, মূলত মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যেই এই অপহরণের ছক কষা হয়েছিল।

এই ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামি হলেনবাবার মামাতো ভাই মো. ফয়সাল (৩২), সিএনজি টেক্সিচালক মো. রাকিব (২২) ও মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫৫)। ব্যবহৃত সিএনজি টেক্সিটিও জব্দ করেছে পুলিশ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবন নেই করিডোর নেই, বিপন্ন বন্য হাতির পাল
পরবর্তী নিবন্ধসুস্পষ্ট লঘুচাপ রূপ নিল নিম্নচাপে, ৩ নম্বর সংকেত বহাল