বিডিআর বিদ্রোহ সংক্রান্ত মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির সাজা ভোগ শেষ হলে তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে কারাগার থেকে খালাস দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নওগাঁ–৩ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদার এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান।
তিনি বলেন, বিডিআর বিদ্রোহ সংক্রান্ত মামলাগুলো ইতোমধ্যে বিজ্ঞ আদালতের সুনির্দিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি একটি মামলায় সাজা ভোগ করার পর তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা থাকলে তা যথাযথ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। খবর বাসসের।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র পরিচয়, পূর্ববর্তী সাজা বা রাজনৈতিক বিবেচনার ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তি যেন অযথা হয়রানির শিকার না হন, সে লক্ষ্যে পুলিশকে স্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি আইনবহির্ভূত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি, মিথ্যা মামলা কিংবা কোনো অযৌক্তিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পাওয়া অভিযোগের সত্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতা নিবিড়ভাবে যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, বিডিআর বিদ্রোহে সাজাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির সাজা ভোগ শেষ হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকলে যথাযথ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি কারাগার থেকে খালাস পাওয়ার অধিকারী।
নির্দোষ কেউ চাকরিচ্যুত হয়নি : বিডিনিউজ জানায়, বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাকরিচ্যুত ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো মোট ৮ হাজার ৭৯৬ জন সদস্যের চাকরিতে পুনর্বহালের সুযোগ নেই বলে সংসদে অভিহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
২০০৯ সালের ওই ঘটনার পরে ৬ হাজার ২৮৬ জনকে চাকরিচ্যুত এবং ২ হাজার ৫১০ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছিল। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই দোষীদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো নিরপরাধ বিডিআর সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি। ফলে চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহালের সুযোগ নেই।









