নির্মাণের আড়াই বছর পরও অব্যবহৃত চারতলা ভবন

সীতাকুণ্ড পৌরসভা প্রতি মাসে ব্যয় ১৫ হাজার টাকা, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

লিটন কুমার চৌধুরী, সীতাকুণ্ড | শনিবার , ২৫ জানুয়ারি, ২০২৫ at ৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ

নির্মাণের আড়াই বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে সীতাকুণ্ড পৌরসভার নির্মিত চারতলা ভবন। ভবনটির সামনে প্রতিনিয়তই মাদকসেবীদের আড্ডা বসে বলে জানা যায়। পৌর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার রাজস্ব বাড়ানোর জন্য চারতলা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিশ্বব্যাংকের প্রায় ৫ কোটি টাকা অর্থায়নে নির্মিত ভবনটি ভাড়া দিয়ে রাজস্ব সংগ্রহ করবে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রাজস্ব বৃদ্ধি দূরে থাক, উল্টো ভবনটির তদারকির কাজে প্রতি মাসে পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে ব্যয় করতে হচ্ছে ১৫ হাজার টাকা। সেই সঙ্গে অতিরিক্ত বোঝা হয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের ঘাড়ে চেপেছে ভবনে সংযোগ দেওয়া বিদ্যুৎ বিলের টাকা। এরই মধ্যে বিদ্যুৎ বিলের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় ভবনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ। শুধু তাই নয়, ভবনটি উদ্বোধন হওয়ার আগেই নবনির্মিত এ ভবনের ওপরের অধিকাংশ কাচ ও গ্রিল ভেঙে পড়েছে।

পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে সর্বসাধারণের কাছে ভাড়া দেওয়ার জন্য ওই ভবনটি নির্মাণ করা হয়। পৌরসভার সাধারণ, পরিষদে এ সংক্রান্ত একটি কমিটি এবং রেজুলেশন করা হয় কিন্তু সে কমিটি এখনো ভবনটি উদ্বোধন করতে পারেনি। পৌর কর্তৃপক্ষ সূত্র জানিয়েছে, মিউনিসিপ্যাল গভর্ন্যান্স অ্যান্ড সার্ভিস প্রজেক্টের (এমজিএসপি) আওতায় চারতলা বিশিষ্ট ভবনটির শুরুতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৪ কোটি ৪৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এরপর ৪ কোটি ৯১ লাখ ৮ হাজার টাকা। ২০১৮ সালের ১০ জুন ভবনটি নির্মাণে নিপা এন্টারপ্রাইজ নামের এক ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি হয়। পরের বছর ১৫ মার্চ ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ৩ বছর পর নির্মাণকাজ শেষে ২০২২ সালের ২৪ মে ভবনটি হস্তান্তর করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৮ আগস্ট সারা দেশের মতো সীতাকুণ্ড পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমকেও অপসারণ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। একই দিন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর তা পরিবর্তন করে ২৩ সেপ্টেম্বর ইউএনওকে প্রশাসক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়। পাশাপাশি পৌরসভার কাউন্সিলরদেরও অপসারণ করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, ভবনটি কী কারণে করেছে তা এখনও আমরা জানতে পারিনি। তবে ভবনটির সামনের জায়গাটি এখন মাদকসেবীদের স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। সন্ধ্যার পর ভবনের সামনে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে।

সাবেক পৌর কাউন্সিলর এ কে এম সামসুদ্দিন আজাদ বলেন, দুই বছর আগে পুরোপুরি নির্মাণকাজ শেষ হয় ভবনটির। নির্মাণকাজ শেষে এটি বুঝিয়ে দেওয়া হয় কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে ভবনটি উদ্বোধন করা হয়ে ওঠেনি। ফলে এটি থেকে রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্য ছিল, তা উল্টো লোকসানে পরিণত হয়েছে। এখন আয়ের পরিবর্তে পৌর কর্তৃপক্ষকে ভবনের পেছনে প্রতি মাসে উল্টো ব্যয় করতে হচ্ছে।

পৌরসভার প্রশাসক ও ইউএনও কে এম রফিকুল ইসলাম বলেন, ভবনের বিষয়টি নিয়ে আমি পৌরসভার সচিবসহ পরিচালনা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করেছি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপাহাড়ে রং ছড়াল পিঠা ও সাংস্কৃতিক উৎসব
পরবর্তী নিবন্ধরাজস্থলীতে পুকুর পাড়ে পড়ে ছিল নবজাতকের লাশ