সংকট পিছু ছাড়ছে না নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের। এক্সপ্রেসওয়ের র্যাম্পগুলোর নির্মাণকাজ শুরু করতে না পারায় বিশাল এই প্রকল্পটি নগরবাসীর খুব একটা কাজে লাগছে না। জিইসি মোড় র্যাম্পের কাজ কোনোরকমে ‘বুঝিয়ে শুনিয়ে’ শুরু করা গেলেও ওয়াসার পাইপ না সরানোর ফলে কাজই শুরু করা যাচ্ছে না। অপরদিকে রেলওয়ে টাকা পয়সা বুঝে নিয়েও জায়গা বুঝিয়ে না দেয়ায় শুরু করা যাচ্ছে না আগ্রাবাদ র্যাম্পের কাজ। অথচ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ আগামী ডিসেম্বরে, হাতে সময় আছে মাত্র আট মাস। অথচ এখনো কাজই শুরু করতে পারেনি গুরুত্বপূর্ণ র্যাম্পগুলোর। প্রকল্পটি ঝুলে থাকায় কোটি কোটি টাকা খরচ করে নির্মিত এক্সপ্রেসওয়ে কবে নাগাদ পুরোপুরি কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, নগরীর যান চলাচলে প্রত্যাশিত গতিশীলতা আনতে ৪ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর ওয়াসা মোড় থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হয়। ইতোমধ্যে এক্সপ্রেসওয়ের মূল অবকাঠামোর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। গাড়ি চলাচলও শুরু হয়েছে। কিন্তু র্যাম্প নির্মাণ সম্পন্ন না হওয়ায় এক্সপ্রেসওয়েটি ঠিকঠাকভাবে কাজে লাগছে না।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ঠিক যেভাবে নির্মিত হওয়ার কথা ছিল পরবর্তীতে সেভাবে নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। নগরীর লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়েতে উঠানামার জন্য ১৫টি র্যাম্প নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল সিডিএর। ২০১৭ সালে অনুমোদিত হওয়া এ প্রকল্প থেকে ইতোমধ্যে ছয়টি র্যাম্প বাদ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠানামার জন্য র্যাম্পের সংখ্যা ৯ টিতে নিয়ে আসা হয়েছে। এতে করে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কানেক্টিভিটি কিছুটা কমেছে। বর্তমানে যে ৯টি র্যাম্প নির্মিত হওয়ার কথা রয়েছে তার মধ্যে জিইসি মোড়ের অতি গুরুত্বপূর্ণ র্যাম্পটি নানা প্রতিবন্ধকতায় ঝুলে আছে। এই র্যাম্পটি না থাকায় জিইসি মোড়সহ সন্নিহিত এলাকা থেকে এক্সপ্রেসওয়েতে উঠার সুযোগ বন্ধ রয়েছে। জিইসি মোড়সহ সন্নিহিত অঞ্চলের ব্যবহারকারীদেরকে মুরাদপুর, ষোলশহর দুই নম্বর গেটের বায়েজিদ রোডের বেবি সুপার মার্কেটের সামনে থেকে অথবা লালখান বাজারে বিকল্প পথ ধরে এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠতে হচ্ছে। শহরের অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং জনবহুল বিস্তৃত এলাকার মানুষকে র্যাম্পে ওঠতে হলে বহুপথ ঘুরতে হচ্ছে। জিইসি মোড়ের র্যাম্পটির নির্মাণকাজ একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে আটকে গেছে। এরমধ্যে ম্যানোলা হিলের পাদদেশে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল তা অবশেষে বুঝিয়ে শুনিয়ে ম্যানেজ করা সম্ভব হয়েছে। ইতোমধ্যে র্যাম্প নামার স্থানটিতে কাজ শুরু হয়েছে। তবে ওয়াসার গুরুত্বপূর্ণ একটি পাইপ লাইন না সরানোর ফলে কোহিনুর সিটি থেকে ওয়াসা মোড় পর্যন্ত র্যাম্পের কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। স্থানটিতে ওয়াসার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাল্ব রয়েছে। যা সরানো ছাড়া র্যাম্পটির কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ পাইপ লাইনটি সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে। এই র্যাম্পটি চালু করা হলে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহন চলাচলের সংখ্যা বহুগুণে বেড়ে যাবে বলে মন্তব্য করে প্রকল্প পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুর রহমান বলেন, আমরা নানাভাবে চেষ্টা করেও কাজটি শেষ করতে পারছি না। কাজ করারই সুযোগ পাচ্ছি না।
অপরদিকে আগ্রাবাদ রেলওয়ে ডেবার পাড় থেকে একটি র্যাম্প যুক্ত হবে এক্সপ্রেসওয়েতে। রেলওয়ে থেকে ২২ শতক জমি সিডিএ র্যাম্পের জন্য নিয়েছে। ইতোমধ্যে সিডিএ প্রায় ১২ কোটি টাকা রেলওয়েকে জমির মূল্য হিসেবে প্রদান করেছে। কিন্তু রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জায়গা বুঝিয়ে না দেয়ায় র্যাম্পটির নির্মাণ কাজই শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। আগ্রাবাদ ডেবার পাড় এলাকার র্যাম্পটি চালু করা গেলে এক্সপ্রেসওয়ের কানেক্টিভিটি অনেক বেড়ে যাবে বলেও প্রকল্প পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুর রহমান উল্লেখ করেন।
এক্সপ্রেসওয়ের নয়টি র্যাম্পের মধ্যে বর্তমানে ফকিরহাট এলাকায় নামা, সিইপিজেড এলাকায় উঠা এবং নামা, কেইপিজেড এলাকায় উঠার র্যাম্পের কাজ চলছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ পুরোপুরি শেষ করার কথা থাকলেও নানা সংকটে র্যাম্প নির্মাণ ঝুলে থাকায় তা সম্ভব হবে না বলেও আশংকা প্রকাশ করা হয়েছে।













