এফসিপিএস প্রশিক্ষণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়নসহ ছয় দফা দাবি আদায়ে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। গতকাল সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেন তারা। পাশাপাশি একই দাবিতে বেলা ১১টার পর ক্লাস বর্জন করেছেন চমেক শিক্ষার্থীরা। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন ভর্তি রোগীরা।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের গত ১৯ মে জারি করা এফসিপিএস প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করে নতুন নির্দেশনা দেওয়া, স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এর বাস্তবায়ন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং সরকারি চিকিৎসকদের জন্য পৃথক বেতনকাঠামো প্রণয়ন। এছাড়া বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর নির্ধারণ, বিএমডিসি আইন–২০২৫–কে অধ্যাদেশের পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তর এবং ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়দানকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিএমডিসি ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সব ভর্তি পরীক্ষার ফি এক হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণের দাবিও জানানো হয়।
ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সমপ্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এফসিপিএস ট্রেনিং–সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সেখানে ঢাকা মেডিকেল ও সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে কিছু বিভাগে নতুন পদায়ন বন্ধ, উপজেলায় দুই বছর বাধ্যতামূলক সেবাদান এবং মেধাভিত্তিক সীমিত ভাতার বিধান রাখা হয়েছে। এসব সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে গত বৃহস্পতিবার থেকে আন্দোলন চলছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাকিব হোসেন বলেন, আমরা ইন্টার্ন ডাক্তাররা কর্মবিরতি শুরু করলেও চমেক হাসপাতালের ট্রেইনি ডাক্তাররা দায়িত্ব পালন করছেন। তাই চিকিৎসা সেবা কিছুটা ব্যাহত হলেও বন্ধ হয়ে যায়নি। এখনো আউটডোর এবং ইমার্জেন্সিসহ সব রকম সেবা সচল আছে। আমরা রোগীদের স্বার্থ বিবেচনা করে কর্মবিরতি পিছিয়েছিলাম। প্রশাসনকে শুরুতে ৪৮ ঘণ্টা ও পরে আরও ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছি। আমাদের বাধ্য হয়ে কর্মবিরতি পালন করতে হচ্ছে।












