অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের উৎসে নজর দিতে হবে

| রবিবার , ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ at ৬:০৮ পূর্বাহ্ণ

সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা বা অযথা বিতর্ক নয়, বরং জাতীয় ঐক্য ও সহনশীলতাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, মত ও পথের ভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু সেই ভিন্নতা যেন কখনো শত্রুতায় রূপ না নেয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দুর্নীতিদুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনজীবনে শান্তি নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ১৫ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার২০২৬’ পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের এক বিশাল সংখ্যক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে। কর্মক্ষম এ জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করাই এ মুহূর্তের বড় চ্যালেঞ্জ। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায়ও বিপর্যয় নেমে এসেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইন্টেরিম সরকারের সময়েও শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরেনি দুঃখজনকভাবে। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে দেশে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক এবং কর্মমুখী করতেই হবে। শিক্ষাব্যবস্থাকে বাস্তবমুখী করার কাজটিও আমরা এরইমধ্যেই শুরু করে দিয়েছি। দেশে অর্ধেকের বেশি নারী। নারীদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে না পারলে আমাদের কোনো উদ্যোগই সহজে সফল হবে না। এভাবে প্রতি সেক্টরকে চিহ্নিত করে সরকার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।

এদিকে, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেছেন, জনবান্ধব পুলিশিং গড়ে তুলতে কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার করতে হবে। মানুষ যেন তাদের কাঙ্ক্ষিত আইনি সেবা থানা থেকে পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। বৃহস্পতিবার ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে মার্চ ২০২৬ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ডিএমপির ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন। ভারপ্রাপ্ত কমিশনার আরও বলেন, ঢাকা মহানগরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। এই স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। ফুট পেট্রোল (হেঁটে টহল) জোরদার করতে হবে। থানা এলাকায় মাদক উদ্ধার ও পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করতে হবে। কোনো অপরাধ যেন থানা এলাকায় সংঘটিত হতে না পারে, সেজন্য তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ প্রদান করেন। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্‌) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের ওপর জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আমরা যেন তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারি, সেজন্য আরও নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্সনীতি অনুসরণ করা হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত বেশ কিছুদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি ঘটছে এবং এর পরিসর বিস্তৃত হচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সমাজবিরোধীদের দৌরাত্ম্য ক্রমেই বেড়ে চলেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো জোরালো ভূমিকা রাখতে পারছে না বলেই সুযোগসন্ধানী অপরাধীচক্র এর ফায়দা লুটছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে মানবাধিকারে আঘাত লাগে তা অনস্বীকার্য। লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এ সরকারের সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অর্থাৎ জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা অন্যতম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁরা বলেন, বিদ্যমান বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আমরা মনে করি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, কারণ ও করণীয় দিকনির্দেশনা প্রত্যেকটি বিষয় সমান্তরালে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের উৎসে নজর দিতে হবে যথাযথ প্রতিবিধান নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে। একই সঙ্গে এই সত্যও প্রতিষ্ঠিত করতে হবে, অপরাধী যত কৌশলই অবলম্বন করুক না কেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তাদের ধরা পড়তেই হবে এবং বিচারে প্রাপ্য দণ্ডটুকুও ভোগ করতে হবে। এ ধারণা সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকানোর পাশাপাশি জনমনে শান্তি ফেরানোর পথ অনেকটাই কণ্টকমুক্ত হবে, শান্তিপ্রিয়দের এই প্রত্যাশায় যাতে চির না ধরে তা নিশ্চিত করার দায় সরকারেরই। মনে রাখতে হবে, যে কোনো স্থিতিশীল সমাজের অন্যতম শর্ত জননিরাপত্তা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৭৮৬
পরবর্তী নিবন্ধএই দিনে