চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও মর্গ এলাকাকে জিম্মি করে রাখা অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) এজিএম মনিরুল হাসান সরকার। পাশাপাশি অবৈধ সিন্ডিকেটের মূল হোতা, চাঁদাবাজ, হামলাকারী ও জালিয়াতির মাধ্যমে পরিচালিত ভুয়া অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের চিহ্নিত করার জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগরীর ‘জাস্টিস অব দি পিস’ হিসেবে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট বিষয়ে ৬ দফা প্রশাসনিক আদেশ জারি করেন সিএমএম। উক্ত দফাগুলোর প্রথমটিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উত্তর বিভাগের অতিরিক্ত উপ–কমিশনারকে সরেজমিন তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী আজাদীকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের ঘোষিত ৬ দফা প্রশাসনিক আদেশের দ্বিতীয় দফায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনার সত্যতা পাওয়া সাপেক্ষে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ও সড়ক পরিবহন আইন বা অন্য কোনো প্রয়োজ্য আইনি বিধানে নিয়মিত ফৌজদারি মামলা রুজু করার জন্য পাঁচলাইশ থানার ওসিকে নির্দেশ প্রদান করতে বলা হয়।
তৃতীয় দফায় বলা হয়, চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসন যৌথ সমন্বয়ের মাধ্যমে হাসপাতাল চত্বরে এমন একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করবেন, যেন হাসপাতালে আগত রোগী এবং মৃত ব্যক্তির স্বজনরা কোনোরূপ ভয়ভীতি বা বাধার সম্মুখীন না হয়ে হাসপাতালের অভ্যন্তরে কিংবা হাসপাতালের বাইরের যেকোনো স্থান থেকে তাদের নিজস্ব পছন্দমতো স্বাধীনভাবে অ্যাম্বুলেন্স, ফ্রিজিং ভ্যান বা অন্য কোনো যানবাহন দ্বারা রোগী অথবা লাশ পরিবহন করতে পারেন। চমেক হাসপাতাল চত্বরে বা প্রধান প্রবেশদ্বারে বাইরের কোনো বৈধ অ্যাম্বুলেন্স বা স্বজনদের নিজস্ব গাড়ি প্রবেশে উক্ত সিন্ডিকেট বা অন্য কোনো ব্যক্তি যেন কোনোরূপ কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা বা বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
চতুর্থ দফায় বলা হয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা এখতিয়ার সম্পন্ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত ও তালিকাভুক্ত অ্যাম্বুলেন্স পরিবহনের বিষয়ে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, মর্গ, বহির্বিভাগ এবং অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ডসহ সর্বসাধারণের সহজে দৃষ্টিগোচর হয় এমন সব উন্মুক্ত স্থানে উক্ত ভাড়ার তালিকা ডিজিটাল ডিসপ্লে বা ব্যানারের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে প্রদর্শন করতে হবে। নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত কোনো টাকা যেন কোনো চালক বা সমিতি দাবি বা আদায় করতে না পারে, তা তদারকি করার জন্য হাসপাতাল চত্বরে একটি সার্বক্ষণিক অভিযোগ কেন্দ্র বা বুথ অথবা জরুরি হেল্পলাইন নম্বর চালু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কোনো অ্যাম্বুলেন্স চালক বা মালিক উক্ত নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত দাবি বা আদায় করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৫ম দফায় বলা হয়, চমেক হাসপাতাল এলাকায় সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং সুচিকিৎসার পরিবেশ নিশ্চিত করতে জরুরি বিভাগ ও মর্গ এলাকায় একটি স্থায়ী পুলিশি নিরাপত্তা চৌকি স্থাপনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সিএমপি কমিশনার গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন।
অত্র আদেশ প্রাপ্তির ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি এবং গৃহীত আইনি ব্যবস্থার প্রাথমিক প্রতিবেদন দাখিল করার জন্যও আদেশে উল্লেখ করা হয়।












